কলকাতা: তারাতলার গোডাউনে ছাদ ভেঙে বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। বুধবারই সরকারের তরফে পাঁচ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় আরও দুই জনের মৃতদেহ। এদিন সকালেও দুর্ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য। বুধবার দুপুর থেকেই উদ্ধার কাজে নেমেছে সেনা। সকালেও তাঁরা কাজ চালাচ্ছে। আনা হয়েছে বিশেষ রাডার। স্নিফার ডগ রয়েছে বুধবার থেকেই। চাঙর সরিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না। সব দিক নিশ্চিত হয়ে তবেই কাজ শেষ করতে চাইছে সেনা। সেনার সঙ্গে রয়েছে এনডিআরএফ, দমকল, পুলিশের দলও।
তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম গুলজার হোসেন (সুপার ভাইজার অয়ন ট্রেডার্স), কমল সামন্ত (লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক), শম্ভুনাথ বেহেরা (যিনি জমি লিজ নিয়েছিলেন), দিবারক ভাণ্ডারি (শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার), আবদুল হামিদ (কেএমসি-তে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী)। ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীদল। ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা সরকারের তরফে।
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, গোয়েন্দা দফতরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত, গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ, তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে আজ বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ তারাতলায় ভেঙে পড়ে নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ। ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনায় অনেকজন হতাহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরে ১৮ ঘন্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও ভিতরে বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে অনুমান উদ্ধারকারীদের। স্নিফার ডগ ও অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজ চলছে।
উদ্ধারকারী দলের সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া মানুষদের অনেকরই মোবাইল এখনও সচল। সেই মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেও জানার চেষ্টা চলছে ধ্বংসস্তূপে আর কেউ চাপা পড়ে আছে কি না। এ ছাড়া সেনার কাছে থাকা একটি বিশেষ রেডারও আনা হয়েছে। তাতে তুষারধসে বা ধসে কেউ চাপা পড়ে আছে কি না তা বোঝা যায়। সেই যন্ত্র এনেই এখন তারাতলার ধ্বংসস্তূপের নীচে চলছে প্রাণের সন্ধান।
বুধবার দুর্ঘটনার পর থেকেই সেখানে আর্তনাদ, বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। একে তো এতবড় বিপর্যয়, তার ওপর স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। আহতদের চিৎকার, রক্ত সব কিছু মিলিয়ে এক যন্ত্রণাময় পরিস্থিতি যেন গ্ৰাস করেছে গোটা শহর।


No comments:
Post a Comment