এনসিপিআইতে জুড়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, June 14, 2026

এনসিপিআইতে জুড়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা


কলকাতা: দিল্লীতে দিনভর টানটান উত্তেজনা। শেষমেশ বড় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের। এনসিপিআইতে জুড়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে যোগ দেবেন ২০ বিদ্রোহী সাংসদ। রবিবার সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি জমা দেন বিদ্রোহী সাংসদরা। এদিন বিদ্রোহী অরূপ চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। চিঠি জমা পড়ে গেছে। নতুন পার্টি অফিস খোলা হবে।' অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক থাকছে না বিদ্রোহী ব্লকের। 


ইতিমধ্যেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িতে এনডিএ-তে যোগ দিতে চেয়ে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ। রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, সায়নী ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী, মিতালি বাগদের মতো ২০ জন সাংসদ। সেখান থেকেই লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে যান এই বিদ্রোহী সাংসদরা। এরপরেই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে সময় যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ত্রিপুরার এনসিপিআই-তে যোগ দিতে যাচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। জানা গিয়েছে, কোনও রকম আইনি জটিলতা এড়াতেই এই পদক্ষেপ তাঁদের। 



আর এরই সঙ্গে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বিদ্রোহে ইতি পড়তে চলেছে। তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন তাঁরা। হাত ছাড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে নতুন পরিচয় নিয়ে পথ চলা শুরু হবে কাকলি, রচনা, সায়নীরা। সেই মর্মেই এদিন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বসে স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লেখা হয়। আর্জি জানানো হয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র সদস্য হিসেবে সংসদীয় পরিচয় পেতে।


নতুন দলে যোগ প্রসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মন্তব্য, "আমরা ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে যুক্ত হব। আমরা এনডিএ-কে সমর্থন করব।" সংসদে পৃথক আসন ব্যবস্থার দাবীতে স্পিকারকে চিঠি জমা দিয়েছেন তাঁরা। কাকলি ঘোষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁরা এনডিএ-র অংশ হবেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে কাজ করবেন।


ভোটের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে ঝড় উঠেছিল, তা আজ একপ্রকার সুনামি হয়ে আছড়ে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের দল যে ভেঙে খান খান হচ্ছে, তাতে আর কোনও সন্দেহ থাকছে না।‌


উল্লেখ্য, বাংলায় সেভাবে পরিচিত না হলেও ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির উপস্থিতি রয়েছে আসাম, ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এনসিপিআই ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। 


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad