কলকাতা: তৃণমূল ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা। তবে, তৃণমূল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না বলেও জানিয়ে দিন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করে মানস ভুঁইয়া। তাঁর কথায়, 'মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে থাকব।'
প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে আর কাজ করার সুযোগ নেই। তাই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই, আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাব না।" আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিজেই সবাইকে জানিয়ে দেবেন বলেও জানিয়েছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে দলের সদস্য পদ ছেড়েছেন তিনি। চিঠিতে মানস ভুঁইয়া লিখেছেন, "তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করুন।”
তৃণমূল ছাড়লেও এখনই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলেও জানিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর কথায়, "এখনই রাজনীতি ছাড়ব না, সমাজসেবাও ছাড়ব না। নিশ্চয়ই কিছু করব। মানুষের সেবা ছাড়া থাকতে পারব না।"
উল্লেখ্য, সবং থেকে মোট সাত বার কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। ২০১৬ সালে জেতার কয়েক মাস পরেই তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল তৃণমূল।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে সবং থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটের একদা তাঁরই অনুগামী হিসাবে পরিচিত বিজেপি প্রার্থী অমল পাণ্ডার কাছে ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত হন তিনি।
বেশ কিছুদিন আগেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এমনকী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় প্রাক্তন বিধায়কের মুখে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মানস ভুঁইয়া বলেছিলেন, "শুভেন্দু মেদিনীপুরের ছেলে। ওর জন্য আমার গর্ব হয়।" তাঁর বক্তব্যের পরেই শুরু হয় জল্পনা! সেই জল্পনার মধ্যেই তৃণমূলের প্রাথমিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মানস ভুঁইয়া।
ছাব্বিশের ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই তৃণমূল কার্যত ছারখার। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদের বিদ্রোহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর তাসের ঘরের মত ভাঙছে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীরাও। এরই মধ্যে এবার তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া।

No comments:
Post a Comment