ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ জুন ২০২৬: হরমুজ প্রণালী এবং ওমানের কাছে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজের ওপর ক্রমাগত হামলা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেসন মিকসকে তলব করেছে এবং এই ধরণের হামলা বন্ধ করে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে হরমুজ প্রণালীতে বাধাহীন ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাগরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০ জন ভারতীয় নাগরিক বহনকারী গিনি-বিসাউ পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার ‘এমটি জলবীর’-এর ওপর হামলার খবর প্রকাশের পর এই ঘটনা। এর আগে, পালাউ পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি সেত্তেবেলো’-র ওপর হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। গত সপ্তাহে ভারতীয় নাবিকসহ তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সেত্তেবেলো ওমানের উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীর বাইরে একটি মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। ফলস্বরূপ, এটিকে নিশানা করা হয়।
এদিকে এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার সমাঝমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেছেন, "তিন দিনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিনজন ভারতীয় মারা গেছেন। আর আমাদের আপোষ করা প্রধানমন্ত্রী? একটি শব্দও না।"
তিনি বলেন, "যখন কোনও বিদেশি শক্তির কর্মকাণ্ডে ভারতীয়রা প্রাণ হারান, তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে কথা বলা উচিৎ।" রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন, কিন্তু ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি।
তাঁর বিবৃতিতে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকারের উচিৎ ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবীতে কূটনৈতিক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

No comments:
Post a Comment