লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৮ জুন ২০২৬: একটি সুষম খাদ্য অনেক পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। সাধারণ ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ওপর মনোযোগ দেওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওমেগা-৩ প্রায়শই উপেক্ষিত হয়। এই উপাদানটি আপনার খাদ্যের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এটি শুধু আপনার শরীরের একটি অঙ্গকে প্রভাবিত করে না; এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত, ওমেগা-৩ তার কাজ করে। এছাড়াও, এটি ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ, ত্বক সুন্দর ও চুল মজবুত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন জিনিস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। ওমেগার ঘাটতি পূরণ করতে পারে, এমন কিছু জিনিস খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন -
ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ করতে, আপনি ফ্ল্যাক্সসিড অর্থাৎ তিসি বীজ খেতে পারেন। এটি খেলে শরীর ভিটামিন ই ও ম্যাগনেসিয়ামও পায়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিদিন ডিম খান। ডিম প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি মেটাতে ব্লুবেরিও খেতে পারেন। এছাড়াও, বেরি খেলে হার্টের সমস্যা কমে যায়।
সবুজ শাকসবজি নিরামিষভোজীদের জন্য ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভালো উৎস। এক্ষেত্রে পালং শাকও খেতে পারেন।
ফুলকপিতেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
সয়াবিনও ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ এর ভালো উৎস। সয়াবিনে প্রোটিন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং ভিটামিন পাওয়া যায়।
কিডনি বিন বা রাজমাতেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ডায়েটে কিডনি বিন অন্তর্ভুক্ত করুন। এটি ডিএইচএ সমৃদ্ধ।
ওমেগা-৩- এর উপকারিতা -
১. বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে-
বিষণ্ণতা বিশ্বের অন্যতম সাধারণ মানসিক ব্যাধি। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দুঃখবোধ, হতাশা এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। উদ্বেগও একটি সাধারণ ব্যাধি, যার বৈশিষ্ট্য হল ক্রমাগত অস্থিরতা। মজার বিষয় হল, গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত ওমেগা-৩ গ্রহণ করেন, তাঁদের বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে।
বিষণ্ণতা বা উদ্বেগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করেন, তখন তাদের উপসর্গগুলোর উন্নতি ঘটে। এনসিবিআই-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে ওমেগা-৩ প্রচলিত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের মতোই কার্যকর।
২. এটি অটোইমিউন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে-
অটোইমিউন রোগে, আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বহিরাগত বস্তুকে চিনতে পারে না এবং সেগুলোকে আক্রমণ করে। টাইপ ১ ডায়াবেটিস এর একটি প্রধান উদাহরণ, যেখানে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আপনার অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে। ওমেগা-৩ এই রোগগুলোর কয়েকটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, জীবনের প্রথম বছরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা-৩ গ্রহণ করলে বেশ কিছু অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি কমে। এর মধ্যে রয়েছে টাইপ ১ ডায়াবেটিস, অটোইমিউন ডায়াবেটিস এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস। এটি লুপাস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রোন'স ডিজিজ এবং সোরিয়াসিসের চিকিৎসাতেও সাহায্য করে।
৩. হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে-
অস্টিওপোরোসিস এবং আর্থ্রাইটিস হল দুটি সাধারণ রোগ যা আপনার হাড়ের গঠন প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ওমেগা-৩ আপনার হাড়ে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে হাড়ের শক্তি উন্নত করতে পারে, যা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।
ওমেগা-৩ আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাতেও সাহায্য করতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারী রোগীরা গাঁটের ব্যথা কমা এবং হাতের মুষ্টিশক্তি বাড়ার কথা জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment