ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৫ জুন ২০২৬: পুলিশ পোস্টে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। খাইবার পাখতুনখোয়া-পাঞ্জাব সীমান্তের কাছে অবস্থিত ঝাঙ্গি পুলিশ পোস্টে সোমবার এই সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বিস্ফোরক বোঝাই একটি সন্দেহভাজন গাড়ি পোস্টে ধাক্কা মারলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে। এতে পাঁচজন পুলিশকর্মীর মৃত্যু এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাড়িটিতে কাঠ বোঝাই ছিল, যার ভেতরে বিস্ফোরক লুকানো ছিল। ধাক্কা ও বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পোস্টের বাইরের দেওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং গাড়িটি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল নাকি রিমোট নিয়ন্ত্রিত গাড়ি ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। দলটি দাবী করেছে যে, তাদের সম্প্রতি উৎক্ষেপিত 'আল-ফারুক' ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই দাবীর সত্যতা নিশ্চিত করছে না। হামলাটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নাকি বিস্ফোরক বোঝাই কোনও যানবাহন দিয়ে চালানো হয়েছে, তা তদন্তকারীরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন। উল্লেখ্য যে, টিটিপি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বাজৌর জেলায় বেশ কয়েকটি একই ধরণের হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আফগানিস্তানে টিটিপি ঘাঁটিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই হামলাটি ঘটল। পাকিস্তান দাবী করেছে যে, এই হামলায় ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় টিটিপি-র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গোলাবারুদের ডিপো এবং কমান্ডার আলিম খান খুশালি ও আখতার মোহাম্মদ জানি খেলের গোপন আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের দাবী দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানি হামলায় কুনার, খোস্ত এবং পাক্তিকা প্রদেশে আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং নাগরিকদের বাড়িঘরে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। মুজাহিদের মতে, এই হামলায় ১১ জন শিশু, একজন নারী ও একজন বৃদ্ধ-সহ বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন।
পাকিস্তান এই বিমান হামলাগুলোকে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৯ জুন মুসা দারা, ২ জুন উত্তর ওয়াজিরিস্তান এবং ৯ মে বান্নুতে সংঘটিত হামলা। ইসলামাবাদ টিটিপি-কে "ফিতনা-ই-খাওয়ারিজ" বলে অভিহিত করে এবং আফগানিস্তানকে টিটিপি-কে আশ্রয় দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে, যা কাবুল ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন চীন দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান এমনকি আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণাও করেছিল। পরে সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের অনুরোধে উভয় পক্ষ মার্চ মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

No comments:
Post a Comment