ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ জুন ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ তাঁর 'মন কি বাত' রেডিও অনুষ্ঠানের ১৩৫তম পর্বের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিরক্ষা খাতে দেশের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরশীলতা, আসামের হরগিলা পাখি-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের দেশ এখন সাগর থেকে আকাশ পর্যন্ত নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল।' প্রধানমন্ত্রী মোদী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারত ও বিদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রস্তাবিত যোগ দিবসে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগব্যায়াম করেছেন। এরপর তিনি পশ্চিম এশিয়ার সংকটের মধ্যে দেশবাসীর দেওয়া পরামর্শের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষ শুধু এই পরামর্শগুলো শুনেছেন তা নয়, তা বাস্তবায়নও করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, দেশের অনেক পরিবার বিয়ের জন্য সোনা না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা পুরনো সোনা গলিয়ে নতুন গয়না তৈরি করবেন। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী জানান যে, অনেকেই তাঁদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করেছেন এবং অনেকে কারপুলিংও শুরু করেছেন। পাশাপাশি, মানুষ পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংকট মোকাবেলায় সোনা না কিনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি জনগণকে সোনা কেনা এড়িয়ে চলতে এবং কার পুলিং বেছে নিতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এদিন (রবিবার) প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে আসামের হরগিলা পাখি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে আসামে বিলুপ্তির পথে থাকা হরগিলা পাখিকে কুসংস্কারের কারণে মেরে ফেলা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হরগিলা পাখি আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু, আসামের মানুষ কুসংস্কারের কারণে একে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর ছিল। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে তারা হরগিলার বাসা থাকা গাছগুলোও কেটে ফেলতেন। এরপর, জীববিজ্ঞানী পূর্ণিমা দেবী বর্মণ বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে একে রক্ষা করার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করেন। তখন থেকেই হরগিলা সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। যে দলটি হরগিলাকে উদ্ধার করেছে, তাকে 'হরগিলা আর্মি' বলা হয়। তাদের প্রচেষ্টা অন্ধবিশ্বাস থেকে বিশ্বাসের পথে এক সফল যাত্রার গল্প বলে।'
দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যের বিমা প্রকল্পগুলি লক্ষ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করছে। তিনি আরও বলেন যে, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।


No comments:
Post a Comment