ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৮ জুন ২০২৬: হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও আশেপাশে অবস্থিত ১০টি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এই অভিযানটি পরিচালনা করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেল ট্যাঙ্কার এম/টি কিকুর ওপর ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ড্রোন মজুত রাখার স্থান এবং মাইন পাতার সক্ষমতাকে নিশানা করেছে। সেন্টকম পরে স্পষ্ট করে জানায় যে, এই অভিযানটি হরমুজ প্রণালীর ভেতরে ও আশেপাশে অবস্থিত ১০টি পৃথক ইরানি সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করে চালানো হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, শনিবার ভোরে ইরানি বাহিনী একতরফা ড্রোন হামলায় এম/টি কিকু নামের তেল ট্যাংকারটিকে নিশানা বানিয়েছে। জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছিল এবং এতে ২০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল।
মার্কিন কর্তারা বলছেন, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে তারা বাণিজ্যিক জাহাজটিতে হামলা করার পথ বেছে নেয়। এর ফলেই মার্কিন সামরিক বাহিনী সামরিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ট্যাংকারটি ওমানের উপকূলের একটি বিকল্প সমুদ্রপথ দিয়ে যাচ্ছিল, যা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হামলার পর, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স-এ সামরিক অভিযানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। সেন্টকম দাবী করেছে যে, এই অভিযানে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ঘাঁটি এবং মাইন পাতার সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “ইরান আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন এক সময় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র সংযম হারাবে এবং সামরিক অভিযান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে বাধ্য হবে। ট্রাম্প লিখেছেন, “এমনটা হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একই ধরণের সামরিক পদক্ষেপের মাত্র কয়েক দিন পরেই উত্তেজনার এই সর্বশেষ বৃদ্ধি ঘটল। বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার জেরে পরদিন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালায়।


No comments:
Post a Comment