কলকাতা: তারাতলায় ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করেন তিনি। ভয়াবহ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০। আহতদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলত মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এই আবহে সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে করা পোস্টে লেখা হয়েছে, 'গতকাল কলকাতায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের নিকট আত্মীয়কে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে। আহতদের দেওয়া হবে ৫০,০০০ টাকা করে।' শুধু তাই নয়, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সবরকম সাহায্য পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দিন-রাত কাজ করছে বলেও সমাজমাধ্যমে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রীর।
শুধু কেন্দ্রের তরফেই নয়, এদিন মৃতদের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি আহতদের এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বেলায় তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামে প্রশাসন। এক এক করে হতাহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘন্টা কাটতে চলেছে। এখনও চারপাশজুড়ে শুধু ধ্বংসের চিত্র। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বড় বড় লোহার বিম। সিমেন্টের চাঙড়। কেন্দ্র এবং রাজ্যের উদ্ধারকারী দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। ভেঙে পড়া বড় বড় চাঙড়, লোহার বিম সরিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কেউ ভিতরে আটকে রয়েছেন কি না।
এদিন সকালেই ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকা তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। এদিকে গোটা রাত ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন মন্ত্রী তথা বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়াও ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। ঘটনাস্থলে ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ করেই চলেছে উদ্ধারকারী সমস্ত দল।


No comments:
Post a Comment