বিদ্রোহী সুদীপ! 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই পাওনা ছিল', বললেন কুণাল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, June 13, 2026

বিদ্রোহী সুদীপ! 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই পাওনা ছিল', বললেন কুণাল


কলকাতা: তৃণমূলের বিদ্রোহ সাংসদদের তালিকা বড় হচ্ছে। এ বার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার দিল্লীতে বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে এক গাড়িতে দেখা গিয়েছে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই নিয়েই এবারে তৃণমূল সাংসদকে এক হাত নিলেন কুণাল ঘোষ। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই পাওনা ছিল।'


শনিবার দিল্লী বিমানবন্দর থেকে শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে চেপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রওনা দেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দর থেকে দু'জনে সোজা পৌঁছেও যান ভূপেন্দ্রে যাদবের বাড়িতে। সেখানে একটি বৈঠকও শুরু হয়। 


এদিকে সংবাদমাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "এদের বিশ্বাস করেছিলেন, আস্থা রেখেছিলেন, সম্মান দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হয়তো এটা ওনার প্রাপ্য ছিল এত আস্থা, এত সম্মানের পর।" এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "এই লোকগুলোই তো সব পদ আঁকড়ে ছিল।" কুণালের রোষ থেকে ছাড় পাননি সুদীপের স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও।‌ তিনি বলেন, "আবার বিজেপির ক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। একটা পরচুলা পরা সাংসদের সঙ্গে একটা ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার, দুটো একসঙ্গে পেয়ে গেল।"


তিনি আরও বলেন, "আমি তো অপেক্ষা করছি, বিজেপির যে দু'একজন নেতা, যাদের চলে যেতে হয়েছিল তৃণমূল ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। তাঁদের দু'একজন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কেলেঙ্কারি নিয়ে যা যা বলেছিলেন, সেগুলো তো দেখেছি। তাহলে এখন নিশ্চয়ই পুলিশ, ওনারা যে যে নাম বলেছেন, তাঁদের গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়ে এবারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। উইয়ে খাওয়া টাকাটা শুরু উইয়ে খেল, নাকি কিছু মানুষও খেয়েছে!" কুণালের দাবী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পুরো তদন্ত হওয়া উচিৎ। 


কুণাল ঘোষ বলেন, "উত্তর কলকাতা থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে নির্বাচিত, তৃণমূলের ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসেবে। তৃণমূলের কর্মীরা খাটলেন। বিজেপি বিরোধী ভোটাররা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থকরা ভোট দিলেন আর আজকে তিনি বিজেপির বাড়ি গিয়ে বসে থাকছেন! এটা কোনও কাজের কথা?"


দলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ও কটাক্ষের সুর এদিন ছিল কুণালেন গলার। তিনি বলেন, 'সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা হিসেবে ঠিক নন, একথা আমি আগেও প্রকাশ্যে বলেছি। সেজন্য আমাকে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। কী লাভ হল! সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমরা তাপস রায়, সজল ঘোষকে হারালাম। আজকে তারা বিজেপিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়ে বসে আছেন। এগুলো আমাদের দলেরও পাওনা ছিল। এইসব মনিমাণিক্যকে তুলেছেন এবং যারা কর্মী, গ্ৰাউন্ড রিপোর্ট অস্বীকার করে এদের তোলা হয়েছে, যা যা পাওনা ছিল তাই হয়েছে।"


উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই শিবিরেই রয়েছেন শতাব্দীও। তাঁর সঙ্গে এদিন একই গাড়িতে চেপে সুদীপের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় বড় একটা অংশ। এদিন সকালে একই বিমানে কলকাতা থেকে দিল্লীতে গিয়েছেন সুদীপ ও শতাব্দী। তারপর সেখানে একই গাড়িতে চেপে দিল্লী বিমানবন্দর থেকে বেরোন সুদীপ। এই থেকেই মোটামুটি স্পষ্ট যে, তিনিও বিদ্রোহী শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad