কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃত্যু মিছিল। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। পাশাপাশি, আহতের সংখ্যা বর্তমানে ১৯ জন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশের তরফে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এসএসকেএম-এ ক্রিটিকাল কেয়ারে চিকিৎসাধীন থাকা খালেক সরকারের শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১২ জন মৃতের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাঁরা হলেন কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯), রোহিত চৌধুরী (২০), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), রাহুল চৌধুরী (১৭), পপ্পু কুমার রজক (৪০), ঘি কুমার (১৭), আসগর হুসেন (৫৪), সাহিল সর্দার (১৭), হাসান ইমাম (৪৪), গণেশ কালিন্দী (৪৫), নবীন সিং (৪৪) এবং স্বপন মন্ডল।
এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাউকেই ছাড়া হবে না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে গঠিত হওয়া সিট তাদের গ্ৰেফতার। তাকে শুক্রবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও আরও ৫ জন গ্ৰেফতার হয়েছেন এই ঘটনায়।
অন্যদিকে, গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। শাসক ও বিরোধীর চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই বিপর্যয়ের জন্য পূর্বের তৃণমূল সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি নিশানা করেছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি কাগজ দেখিয়ে বলেন, 'বিল্ডিং প্ল্যান ত্রুটিযুক্ত। আর সেই প্ল্যানে সই রয়েছে প্রাক্তন মেয়রের। কাউকে ছাড়া যাবে না।' তিনি এও বলেছিলেন, কালীকে তুললে সব জানা যাবে।
কালীচরণকে সেই সূত্র ধরেই গ্ৰেফতার করা হয়। প্রভাব খাটিয়ে বিতর্কিত ওই গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কালীচরণের বিরুদ্ধে।

No comments:
Post a Comment