ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৪ জুন ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই হুঁশিয়ারির সুর ট্রাম্পের গলায়। পেনসিলভানিয়ায় পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান ইতিমধ্যেই পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং তারা যদি এখন সরে আসে, তাহলে শান্তি আলোচনা বাতিল করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “তারা ভুল করছে। তারা ভুল করছে। তারা ভুল করছে। তারা জানে যে তারা ভুল করছে। তারা অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের জানিয়েছে এবং পরিদর্শনের বিষয়ে আমাদের কাছে শতভাগ নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। আর যদি তারা সঠিক হতো, আমি এখনই বৈঠকগুলো বাতিল করে দিতাম।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএএইএ) ইসলামী প্রজাতন্ত্রে পারমাণবিক পরিদর্শন চালানোর অনুমতি না দেয়, তবে তিনি ইরানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত আলোচনা বাতিল করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বাস দিয়েছে। পরিদর্শনের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সঠিক সময়ে। কোনও তাড়াহুড়ো নেই, তবে সেগুলো সঠিক সময়েই হবে।”
তিনি আরও দাবী করেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে এবং ট্রাম্প এও ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধের পর ইরানের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে দারুণ কাজ করছি। তারা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য কাজ করছি এবং দেখব সবকিছু কীভাবে এগোয়।"
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। ইরান একটি কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।" তিনি বলেন, "আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থানে এনেছি, যেখানে অন্য কেউ কখনও আনতে পারেনি। অন্যান্য রাষ্ট্রপতিদের এটা ৪৭ বছর আগেই করা উচিৎ ছিল এবং আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থানে এনেছি যেখানে তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ... তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তাদের রাডার ব্যবস্থা চলে গেছে।"
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেল ট্যাঙ্কার সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবী করেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক কারিগরি আলোচনার পর তেল চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি ১৪-দফা চুক্তি স্মারকের (এমওইউ) অধীনে সুইজারল্যান্ডে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, "আপনারা হয়তো গতকাল শুনেছেন, ১৯ ব্যারেল তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে এবং এটি হরমুজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা।"
ট্রাম্প আরও বলেন, যেকোনও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তিতে ইরানের মানবিক চাহিদাও বিবেচনায় রাখা হবে। তিনি বলেন, "ইরান থেকে যে অর্থ নেওয়া হবে তা আমাদের কৃষকদের দেওয়া হবে, যাতে তারা ইরানে ভুট্টা, সয়াবিন এবং গম পাঠাতে পারে, কারণ সেখানে ক্ষুধা, খাদ্য ও ওষুধের সমস্যা রয়েছে।" পারমাণবিক পরিদর্শন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সময় সুইজারল্যান্ডে আলাপ-আলোচনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

No comments:
Post a Comment