পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্য সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরেই একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। এবারে পুলিশের জালে তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুজিত রায়। শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। মিথ্যে ধর্ষণের মামলা সাজিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও ধৃতের দাবী, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
আজ শনিবার তমলুক জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেতা সুজিত রায়কে। আর থানা থেকে গাড়িতে তোলার সময়ই উড়ে আসে পরপর ডিম।
বিক্ষুব্ধ মানুষজন ও বিজেপি কিছু কর্মী-সমর্থকরা ধৃত তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন। পাশাপাশি ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় এক মহিলা আইনজীবীকেও। তাঁর ওপরেও ডিম্বাস্ত্র প্রয়োগের পাশাপাশি তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে
পাঁশকুড়ার বাসিন্দা এক মহিলা, তৃণমূল নেতা কুরবান শাহের দাদা আফজল শাহের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর গোটা ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। ওই মহিলা ফের পাঁশকুড়া থানার দ্বারস্থ হয়ে একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করেন ১৭ই জুন। তাঁর দাবী, তৎকালীন সময়ে সুজিত রায় তাঁকে চাপ দিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য করেছিলেন।
অভিযোগকারিনীর কথায়, 'ওই সময় তৃণমূলের রাজত্ব ছিল, তাই আমাকে বন্দুক দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে আফজল শাহদের নামে জোর করেই মিথ্যে অভিযোগ করতে বাধ্য করে। মহিলার এই বিস্ফোরক বয়ানের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং শুরু হয় তদন্ত। এরপরই কলকাতা থেকে সুজিত রায়কে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে, এদিন আদালতে তোলার আগে সুজিত রায় বলেন, 'আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।'

No comments:
Post a Comment