কলকাতা: সংসদে আরও দুর্বল হল তৃণমূল। এবারে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। ছাড়লেন দলও। চার দিনের মধ্যে এই নিয়ে তিনজন সাংসদ পদ ছাড়লেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিলেন প্রকাশচিক বরাইক। সোমবার সুখেন্দু শেখর রায় রাজ্যসভার সাংসদ থেকে ইস্তফা দেন, সঙ্গে দলও ছেড়েছেন। এরপর বুধবার সুস্মিতা দেব রাজ্যসভার পর থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি যে আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই সেটাও জানিয়ে দেন। আর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন তৃণমূলের প্রকাশ চিক বরাইক। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২০২৯ পর্যন্ত মেয়াদ ছিল তাঁর।
আলিপুরদুয়ার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অতি পরিচিত মুখ প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁর এদিন পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এরই সঙ্গে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল দশে। শুধু রাজ্যসভার সাংসদ পদই নন, দলও ছেড়েছেন প্রকাশ চিক বরাইক, এমনই জানিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন তিনি। প্রকাশ বলেন, 'বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই তা ভোটবাক্সেই বুঝিয়ে দিয়েছে।' এখানেই শেষ নয়, সদ্য প্রাক্তন সাংসদ বলেন, 'আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতো কাজ করব।' আর এখান থেকেই গুঞ্জন প্রকাশ এবারে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
গতকাল বুধবারের দেখা গিয়েছিল সুস্মিতা দেব পদত্যাগের পরেই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে দেখা করেন। সুস্মিতা জানান জানান, তিনি যাতে আসামের মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন, সেকথাই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। আর এদিন প্রকাশ চিক বরাইকের মুখেও শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথা।
ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ছায়াসঙ্গীরাও তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। রাজ্যসভাতেও শুরু হয়েছে রক্তক্ষরণ। তবে, জোড়া ফুল শিবিরে ভাঙনের শেষ যে এখানেই নয়, সেকথাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বড় একটা অংশ। তাঁদের মতে পদত্যাগের পথে হাঁটতে চলেছেন আরও অনেক হেভিওয়েট।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ঘনিষ্ঠ' বলেই পরিচিত ছিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। পরে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার থেকে প্রার্থীও করা হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরাস্ত হন তিনি।


No comments:
Post a Comment