মুর্শিদাবাদ, ২৭ জুন ২০২৬: এবারে বুলডোজার চলল তৃণমূল যুব নেতার বাড়িতে। যুব তৃণমূল নেতার বেআইনি নির্মাণ ভাঙল পুরসভা। অন্যের জায়গা দখল করে বাগান বাড়ি বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল যুব নেতার পরিবারের দাবী, ওই জায়গা তাঁরা কিনেছিলেন। এদিকে পলাতক যুবনেতা ও তাঁর স্ত্রী। ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
বহরমপুর শহর তৃণমূলের যুব সভাপতি পাপাই ঘোষ। তাঁর স্ত্রী মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এদিন তাঁদের বাগান বাড়ি ভেঙে দিল প্রশাসন। বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ লাগোয়া এলাকায় ছিল ওই বাগান বাড়ি। ওই বাগান বাড়িতে বসে পাপাই ঘোষ এলাকার মানুষের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করতেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে কাউকে হুমকি দিতে হলেও তাঁকে ওই বাগান বাড়িতে ডেকে পাঠানো হত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই বাগান বাড়িতে পাপাই ঘোষের অনুগামীদের আনাগোনা লেগেই থাকতো। প্রতি দিন রাতে ওই বাগান বাড়িতে পিকনিক হত এবং অনেক রাত পর্যন্ত মদ-মাংস খাওয়া চলত। তাঁদের ভয়ে রাত-বিরেতে পাড়ার লোকজন থেকে মহিলারা ওই বাগান বাড়ি লাগোয়া রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেও ভয় পেতেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জায়গার মালিক হাওড়া এলাকায় থাকেন। এই জায়গাটি বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে ছিল। ফলে কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরবোর্ড ওই ফাঁকা জায়গায় এলাকার শিশুদের স্বার্থে একটি শিশু উদ্যান গড়ে তোলে। বাকি অংশ ফাঁকা পড়ে ছিল। পরবর্তীতে বহরমপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলে এলে ওই ফাঁকা জায়গার নকল দলিল করে পাপাই ঘোষ দখল নিয়েছিল।
এ নিয়ে এলাকাবাসী কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেন। ওই মামলার রায় এলাকাবাসীর পক্ষে যায়। এর পরে এদিন প্রশাসন বুলডোজার নিয়ে গিয়ে ওই বাগান বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এমনকি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার উমা ঘোষের স্বামী মিন্টু ঘোষের একটা ক্যাফে ছিল, সেটাও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে যুবনেতা ও তাঁর স্ত্রীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁরা পলাতক বলে জানা গিয়েছে। ওই যুবনেতার মা চম্পা ঘোষের দাবী, "আমরা ওই জমিটি কিনেছিলাম। সব কাগজপত্র আছে। ছেলে রাজনীতি করে সেই জন্যই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। ছেলে বাড়িতে নেই।"
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথেই হেঁটেছে সরকার। কোনওভাবেই অবৈধ নির্মাণ ও কাজ মেনে নেওয়া হবে না সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেআ। সেই মোতাবেক কাজ শুরু করেছে প্রশাসনও।

No comments:
Post a Comment