বর্ষাকালে বাড়ে চোখের ফ্লু-এর প্রকোপ, সুরক্ষিত রাখবে বিশেষজ্ঞদের এই টিপস - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, June 27, 2026

বর্ষাকালে বাড়ে চোখের ফ্লু-এর প্রকোপ, সুরক্ষিত রাখবে বিশেষজ্ঞদের এই টিপস


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৭ জুন ২০২৬: বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দিলেও, এটি কনজাংটিভাইটিস সহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এগুলো সাধারণত চোখের ফ্লু নামে পরিচিত। হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে প্রায়শই চোখ লাল হওয়া, অতিরিক্ত জল পড়া, চুলকানি এবং অস্বস্তির অভিযোগ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যায় এই সময়ে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মরসুমে চোখের ফ্লু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, দূষিত জল এবং মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ অন্যতম প্রধান কারণ। এই সংক্রমণ সহজেই বাড়ি, স্কুল, অফিস এবং জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।


কনজাংটিভাইটিস কী?

কনজাংটিভাইটিস হল চোখের সাদা অংশ এবং চোখের পাতার ভেতরের পৃষ্ঠকে আবৃতকারী পাতলা ঝিল্লির প্রদাহ। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। এই অবস্থার ফলে প্রায়শই চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ দিয়ে জল পড়ে, অস্বস্তি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চোখ থেকে আঠালো পুঁজ বের হয়। শিশুরা এই সংক্রমণের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তারা প্রায়শই তাদের চোখ স্পর্শ করে বা ঘষে, যা সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।


চোখের ফ্লু-এর সাধারণ লক্ষণসমূহ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখা উচিৎ-

* চোখে লালচে ভাব

* চোখ দিয়ে অতিরিক্ত জল পড়া

* চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া

* চোখে অস্বস্তি বা কোনও বহিরাগত বস্তু থাকার অনুভূতি

* চোখের পাতা ফুলে যাওয়া

* আঠালো পদার্থ বের হওয়া 

* আলোতে সংবেদনশীলতা


এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে, অবস্থাটিকে উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।


বর্ষাকালে চোখের ফ্লু কেন বেশি ছড়ায়?

বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্ষাকাল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির জল, ধুলো এবং দূষণের সংস্পর্শে এসে চোখে জ্বালা হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও, ভিড় এবং মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ভাইরাল কনজাংটিভাইটিসকে অত্যন্ত সংক্রামক করে তোলে, যার ফলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


প্রতিরোধের উপায় -

হাতের পরিচ্ছন্নতাই হল প্রথম প্রতিরোধ ব্যবস্থা

ডাক্তাররা জোর দিয়ে বলেন যে, চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলির মধ্যে একটি হল হাতের সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। যেহেতু মানুষ অজান্তেই দিনে একাধিকবার তাদের মুখ এবং চোখ স্পর্শ করে ফেলেন, তাই হাতে থাকা জীবাণু সহজেই চোখে পৌঁছাতে পারে।


সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে চোখ স্পর্শ করা বা ঘষাঘষি করা এড়িয়ে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।


ঠাণ্ডা সেঁক উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে

চোখের ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ফোলাভাব, লালচে ভাব এবং অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। ঠাণ্ডা জলে ভেজানো একটি পরিষ্কার কাপড় বন্ধ চোখের পাতার ওপর রাখলে আরাম পাওয়া যায় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে, বিশেষজ্ঞরা চোখের চারপাশে ব্যবহৃত তোয়ালে এবং কাপড় নিয়মিত ধোয়া এবং অন্যদের সাথে সেটি ভাগাভাগি না করার পরামর্শ দেন।


পুরনো চোখের প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন

চোখের প্রসাধনী যেমন মাসকারা, আইলাইনার এবং আইশ্যাডোতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। চোখের সংক্রমণের সময় বা পরে পুরনো বা দূষিত পণ্য ব্যবহার করলে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কনজাংটিভাইটিস থেকে সেরে ওঠার পর বিশেষজ্ঞরা চোখের প্রসাধনী পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন।


চোখের ড্রপ দিয়ে নিজে নিজে চিকিৎসা করবেন না

চোখ লাল হয়ে গেলেই অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক চোখের ড্রপ ব্যবহার শুরু করেন। তবে, কনজাংটিভাইটিসের সব ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া দায়ী নয়। ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস প্রায়শই নিজে থেকেই সেরে যায়, অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। ডাক্তাররা পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও চোখের ড্রপ ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।



কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিৎ

যাদের চোখে ফ্লু হয়, তাদের অবিলম্বে কন্টাক্ট লেন্স পরা বন্ধ করা উচিৎ। সংক্রমণের সময় লেন্স ব্যবহার চালিয়ে গেলে জ্বালাভাব আরও বাড়তে পারে এবং সেরে উঠতে বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে সংক্রমণ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করা উচিৎ।


সংক্রমণ ছড়ানো প্রতিরোধ করুন

যেহেতু চোখের ফ্লু অত্যন্ত সংক্রামক, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাসম্ভব অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিৎ। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, তোয়ালে বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা পরিবার, স্কুল এবং কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, বর্ষাকালে চোখের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো যত্ন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad