কলকাতা: সুরেন্দ্রনাথ কলেজ দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর আরও অনেক সরকারি অফিস, বেসরকারি স্কুল থেকে সুরুচি সঙ্ঘের মত বড় বড় ক্লাব থেকে বিলাসবহুল বিছানা-সহ বিভিন্ন আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার হয়েছে। এবারে শিরোনামে বিধাননগর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিলাসবহুল ওয়ার্ড অফিস। বলা ভালো বিলাসবহুল হোটেল। কী নেই সেখানে! একাধিক সোফা, অনেক এসি থেকে শুরু করে মহিলাদের ড্রেসিং টেবিল, শয়নকক্ষ, বিছানা-বালিশ পর্যন্ত। এমনকি কন্ডোমও রয়েছে সেখানে। দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকা ওয়ার্ড অফিস খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কেন শয়নকক্ষ। পরে বুঝেছি। এই জিনিস দেখাও পাপ।”
ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর থেকে নিখোঁজ বিধাননগর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ওয়ার্ডে ঠিক মতো কাজ হচ্ছে না। জানা যায়, জনতার সেই অভিযোগ শুনেই শুক্রবার ওয়ার্ড অফিসের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্তনগর এলাকায় বিজেপির একটি পথসভা ছিল। আসন্ন পুরভোটের জন্য সেই কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এটা শেষ করেই মন্ত্রী শারদ্বত-সহ দলের নেতা-কর্মীরা ওয়ার্ড অফিসে যান। আর সেখানে গিয়ে ভিতরে ঢুকতেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ! সাজানো রয়েছে পর পর সব দামি দামি সোফা। ঝাঁ চকচকে পুর অফিসে রয়েছে পাঁচটিরও বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র।
এছাড়াও কাউন্সিলর রুমে ঢুকতেই দেখা যায় ভেতরে রয়েছে খাট। আলমারিতে ফাইল নয়, রয়েছে একাধিক শীতের কম্বল, নরম বালিশ, চাদর। আরও অভিযোগ, ঘরের ড্রেসিং টেবিল থেকে উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেট। ওয়ার্ড অফিসে এই সব দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক। তিনি বলেন, "শয়নকক্ষ, ছোট-বড় মিলিয়ে একাধিক ঘর, কম্বল, বালিশ, মহিলাদের ড্রেসিং টেবিল। প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কেন এইসব পরে বুঝলাম।"
বিধায়ক বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, এই জিনিস দেখাও পাপ। এবার বুঝতে পারলাম কেন শয়নকক্ষ!” এরপর তিনি জানান, ওয়ার্ড অফিসটি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধকরণ করার পরেই সেখানে সরকারি কাজকর্ম শুরু হওয়া উচিৎ। এবিষয়ে তৃণমূল বা ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর ইতিমধ্যে ইস্তফা দিয়েছেন। এখন প্রশাসক ওই ওয়ার্ডের পরিচালক। বিজেপি কর্মীরা প্রাক্তন কাউন্সিলরের দিকেই আঙুল তুলেছেন। পাশাপাশি এই সমস্ত বিষয় সামনে আসতেই ব্যাপক চঞ্চলের ছড়িয়েছে। ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। অফিসে কোনও অনৈতিক কাজ হতো কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে।

No comments:
Post a Comment