কলকাতা: ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীরাও। এই মুহূর্তে হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদ-বিধায়কই রয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। আর তাঁদের নিয়েই তিনি ২১ শে জুলাই শহীদ দিবস পালন করবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে, এই শহীদ দিবস পালন নিয়েই মমতাকে নিশানা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পরে এই কর্মসূচি আদর্শহীন ইভেন্টে পরিণত হয়েছিল বলেও তোপ দাগা হয়। তবে, দলের দীর্ঘ দশকের এই কর্মসূচি যে মমতার জন্যই এই মাত্রা পেয়েছিল, সে কথাও মনে করিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব।
শুক্রবার কংগ্রেস দলের তরফে এই সংক্রান্ত পোস্টার প্রকাশ করে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী তথা তৎকালীন বাম আমলের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত, যাঁর নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল তাঁর ফাইল প্রকাশের দাবী জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। ৩৩ বছর আগে ১৯৯৩ সালে ভোটার আইডির দাবীতে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৩ জন দলীয় কর্মীর। এত বড় কর্মসূচির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছেন দলের ২১ জুলাই উদযাপন কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রদেশ নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী।
একটি বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পরে এই কর্মসূচি আদর্শহীন ইভেন্টে পরিণত হয়েছিল, যা কংগ্রেসের মূল ভিত্তির পরিপন্থী। এবার কংগ্রেস ২৮ বছর পর সদর দফতর বিধান ভবনের বাইরে এসে একেবারে শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি করছে। রাহুল গান্ধীকে এই শহীদ স্মরণে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
পাশাপাশি প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, “এই কর্মসূচি শুধু শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়। এটি সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ধারাবাহিক সংগ্রামেরও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।”
'মণীশ গুপ্ত ফাইল' প্রকাশের দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং গুলিচালনার পিছনের প্রকৃত সত্য জানার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে 'মণীশ গুপ্ত ফাইল' অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।"
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের তরফে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অমিতাভ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ আয়োজক কমিটি গঠন করা হবে, যা কর্মসূচির সমস্ত দিক তদারকি করবে।

No comments:
Post a Comment