১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ১,৮০০: দাবী শুভেন্দুর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, June 23, 2026

১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ১,৮০০: দাবী শুভেন্দুর


কলকাতা: রাজ্যের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকার যে কোনও আপোষ করবে না তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিমত, 'যারা প্রকৃত ভারতীয় তাঁদের দুঃশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই, তা সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।'


তিনি বলেন, 'আমরা ভারত সরকারের আইন কার্যকর করেছি। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরো আর বিএসএফকে দাও। নো জেল। আমাদের টাকায় অন্নপূর্ণা যোজনা হবে, বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরি পাবে, খাবার জলের ব্যবস্থা করা হবে, ভাঙা স্কুলটাকে সোজা করব। কিন্তু ওই লোকগুলোকে জেলের খাওয়ার, কাপড়, ওষুধ দিতে পারব না।' 


বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, 'এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী বের করেছি। রাজ্যে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১,৮০০ অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন ওপারে পাঠাচ্ছি। এখানে কেউ থাকবে না। নিশ্চিন্তে থাকুন, ভোট ব্যাংকের জন্য আমরা এই জিনিস বরদাস্ত করব না।' 


মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু জানতে চান, কেন বিএসএফকে জমি দেওয়া হয় নি?


তিনি বলেন, 'আমরা এখনও পর্যন্ত ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছি। কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৬০০ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়ে যাবে। তার আগে যারা পালাতে চান, পালিয়ে যান। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই পালিয়েছে।' তাঁর হুশিয়ারি, 'রাজ্যের তথা দেশের সুরক্ষা, নিরাপত্তা আর বাংলাকে সুরক্ষিত, মজবুত করার জন্য সরকারের নীতি একদম পরিষ্কার। এই বিষয়ে আঙুল তুললেই যারা যে ভাষায় বোঝে, তাঁদের সেই ভাষাতেই আমরা উত্তর দেব।' 


কলকাতার বেনিয়াপুকুর অঞ্চলে 'সোহরাওয়ার্দি এভিনিউ'-এর নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জির নামে রাখা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'আমি যখন পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করি তখন দেখতাম সোহরাওয়ার্দি এভিনিউ লেখা আছে। এ রাজ্যে সোহরাওয়ার্দির নাম তো থাকবে না। এই কলকাতাতে মোগল, পাঠানের নামও থাকবে না। দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস, নোয়াখালীর দাঙ্গা আর অত্যাচারী ব্রিটিশ- কারও নাম রাখার ক্ষেত্রে পাঁচবার ভাবতে হবে। কিন্তু যদি ডঃ এপিজে আবদুল কালাম(প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি)- এর মতো কোনও প্রকৃত দেশপ্রেমী ব্যক্তিদের তথ্য দেবেন আমরা তাঁদের মর্যাদা দেব।' 


মুসলিমদের উন্নয়নে আগের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দল তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, 'আপনারা মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। স্কুল-কলেজে না পাঠিয়ে কেন খারিজি মাদ্রাসায় পাঠাবেন? কেন ডাক্তার, প্রকৌশলী করবেন না? সংখ্যালঘু তোষণ নিয়েও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। নির্বাচনের সময় মুসলিমদের সমর্থনে মমতার বেশ কিছু ধর্মীয় উস্কানি মূলক মন্তব্যেরও বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী।  


দুর্নীতি ইস্যুতে শুভেন্দুর সাফ বার্তা, 'তোলাবাজ, দুর্নীতিবাজ একজনও জেলের বাইরে থাকবে না। নতুন বিল এনে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে এবং গরীব, ফুটপাত বাসীদের সেখানে স্থান দেওয়া হবে।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad