কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই চরম সঙ্কটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। ৬০ বিধায়কদের পর বিদ্রোহী ২০ সাংসদ। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন। তাহলে মমতা এখন কী করবেন? কীভাবে সামলাবেন দলের এই ভাঙন? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যখন ব্যস্ত বিভিন্ন মহল, তারই মাঝে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা, মমতা কী আবারও কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছেন? আপাতত দিল্লীতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পর মঙ্গলবার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অভিষেক। আর এতে করেই জল্পনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
সূত্রে খবর, কংগ্রেসের তরফে তৃণমূল সুপ্রিমোকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী এই প্রস্তাব মমতাকে দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে বৈঠকর সময়। এমনকি, সোনিয়া গান্ধীর তরফে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও এইসব দাবীর কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, 'রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। এখানে যা কিছু হতে পারে।' তাঁর বক্তব্য, 'রাহুল গান্ধীর লড়াইয়ে সামিল হয়ে তাঁকে সামনে রেখে যে কেউ কংগ্রেসে আসতে পারে।'
আবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, তাঁরা কেউ কংগ্রেসে মিশে যাবেন এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট বলেন, 'আমরাই তো তৃণমূল। আমরা তো কেউ কংগ্রেসে যাচ্ছি না। কে ব্যক্তিগত ভাবে কার সঙ্গে দেখা করলেন, তাতে কি যায়-আসে!' পাশাপাশি তাঁর দাবী 'নতুন তৃণমূল' শিবিরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হচ্ছে।
ওদিকে তৃণমূলের পরিষদীয় দলেও ভাঙন; বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের আলাদা ব্লক হিসেবে। তাঁরা এনডিএকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় ও সুস্মিতা দেব। প্রতীক সঙ্কটে ভুগছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের বড় একটা অংশের। মনে করা হচ্ছে, যে কোনও সময় জোড়া ফুল প্রতীক তাঁর হাতছাড়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে ১৯৯৮ সালে দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ বছরের পথ চলা তৃণমূলের। এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল শুধু নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও দৃঢ়তার সাথে আত্মপ্রকাশ করেছে তৃণমূল। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় কি 'হাত'-এ হাত রাখবেন মমতা? নাকি দল গোছাতে ভিন্ন পথে হাঁটবেন তৃণমূল সুপ্রিমো? এসব প্রশ্নের উত্তর তো একমাত্র সময়'ই দেবে।

No comments:
Post a Comment