কঠিন সময়ে মমতার পাশেই শত্রুঘ্ন, বিদ্রোহী শিবিরে যোগের খবর নাকোচ তৃণমূল সাংসদের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 11, 2026

কঠিন সময়ে মমতার পাশেই শত্রুঘ্ন, বিদ্রোহী শিবিরে যোগের খবর নাকোচ তৃণমূল সাংসদের


কলকাতা: কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে কিছুতেই যাবেন না, বৃহস্পতিবার এমনই জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। তৃণমূলে সংসদীয় দলে ভাঙন এবং চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদের তালিকায় শত্রুঘ্ন সিনহার নামও রয়েছে, যখন এই নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে, সেই সময়ে তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্য। অর্থাৎ তাঁর বিদ্রোহী শিবিরে যোগের খবর সম্পূর্ণ নাকোচ করে দিয়েছেন। 


বৃহস্পতিবার তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে মমতা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আর আজ এই কঠিন সময়ে তিনি কোনও ভাবেই মমতাকে ছেড়ে যাবেন না। 


সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বলেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন স্ট্রিট ফাইটার। এখনও তাঁর ৪১ শতাংশ ভোট শেয়ার রয়েছে। কিছু লোক হয়তো বাধ্যবাধকতা, ভয় বা প্রলোভনের কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে গেছেন, কিন্তু আমি আমার পথ বদলাব না।" তাঁর স্পষ্ট বার্তা, তিনি দল বা তাঁর নেত্রী কাউকেই ছেড়ে যাবেন না।


তিনি বলেন, “আমি নিজের জন্য তিন লাইনের হুইপ জারি করছি — আমি তৃণমূল ও মমতা জি'র সঙ্গে ছিলাম, আমি তৃণমূল ও মমতা জি'র সঙ্গেই আছি, এবং আমি তৃণমূল ও মমতা জি'র সঙ্গেই থাকব। আমার কোথাও যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।”


শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, "২০১৯ সালে পাটনা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর যখন আমি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন খুব কম মানুষই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অল্প কয়েকজনের মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি আমাকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন।"


তিনি আরও বলেন, "তিনি বিশ্বাস করতেন যে আমার সংসদীয় যাত্রায় কোনও ছেদ না ঘটিয়ে এগিয়ে চলা উচিৎ এবং তাঁর নির্দেশনাতেই আমি আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় এবং মমতা জি ও আসানসোলের জনগণের সমর্থনে আমি বিজয় অর্জন করেছি। গত কয়েকদিন ধরে আমাকে নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। কিছু লোক সত্যি কথা বলছে, আবার অন্যরা গুজব ছড়াচ্ছে।"


তারকা সাংসদ আরও বলেন যে, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। যারা আমাকে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ; তবে নীতিগতভাবে আমার অবস্থান হল—এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দাঁড়ানো উচিৎ।"


তাঁর কথায়, "কেউ কেউ দাবী করেছেন যে, আমি তথাকথিত বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়েছি। হ্যাঁ, স্বভাবগতভাবেই আমি বরাবরই স্পষ্টভাষী। আমি প্রায়ই বলি যে, সত্যি কথা বলাকে যদি বিদ্রোহ বলে ধরা হয়, তাহলে আমিও একজন বিদ্রোহী। আমি সবসময় অকপটে কথা বলেছি এবং যা সত্যি তাই বলেছি। কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমার কঠিন সময়ে মমতা জি আমার পাশে ছিলেন এবং আজ তাঁর এই কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ছেড়ে যেতে পারি না।"


তিনি বলেন, "ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে একবার নয়, দু'বার নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাই, মমতা জি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য ও দায়িত্ব। আমার নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট, যখন মমতা জি আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন এই মুহূর্তেও তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।" 


নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের সামনে কঠিন সঙ্কট। বিদ্রোহী হয়েছেন একাধিক বিধায়ক। ৫৮ জনের সমর্থনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙন। বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন। 


বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি স্পিকারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও এখনও পর্যন্ত এর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিস্বীকার প্রকাশ করা হয়নি। তবে, বিদ্রোহী সাংসদদের নামের একটি তালিকা একদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এই তালিকায় রয়েছে শত্রুঘ্ন সিনহার নামও। কিন্তু এরই মাঝে তৃণমূল সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad