দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন শওকত মোল্লা। তাঁকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। গত ১৫ জুন, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে জীবনতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি গত ২০১৯ সালে মার্চ মাসের। শওকত এবং তাঁর তিন ঘনিষ্ঠ মিলে তাঁকে দিনের পর দিন তাঁকে ধর্ষণ করেছেন এবং অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছেন।
মহিলার অভিযোগ, তাঁর পাঁচ বছরের সন্তানকে বেশ কয়েকজন সমাজবিরোধী তুলে নিয়ে যায়। সন্তানকে ফিরে পেতে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মহিলা। ওই অভিযুক্ত শওকত মোল্লার গাড়িচালকের দাদা। সে ডেরায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে মহিলাকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয় বলেই অভিযোগ। বলা হয়, যখনই ডাকা হবে, তখন না আসলে সন্তানকে আর পাবেন না। অভিযোগ, ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও অভিযুক্ত তুলে রেখে ব্ল্যাকমেল করে। ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার হুমকিও দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ।
মহিলার আরও দাবী, ওই অভিযুক্তই তাঁকে শওকতের ডেরায় পাঠায় এবং শওকতও তাঁকে ধর্ষণ করে। এতদিন ধরে ভয় ও লজ্জায় তিনি কিছু জানাতে পারেননি। পুলিশ সূত্রে খবর, গৃহবধূর অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। সেটার ভিত্তিতে তদন্তও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয় একজনের। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। সেই ঘটনার তদন্তে এনআইএ-র একাধিক দল ভাঙড়ে হানা দেয়। একটি দল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশির আগেই এলাকা ছাড়েন শওকত। এরপর লাগাতার তল্লাশিতে শেষমেষ এনআইএ শওকতকে গ্রেফতার করে। যদিও তাঁর পরিবারের দাবী, আত্মসমর্পণ করেন তিনি। বর্তমানে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে তৃণমূল নেতার। আর এতে করেই ওই বধূ সাহস পেয়েছেন। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

No comments:
Post a Comment