বর্ষা ও তার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নগরোন্নয়ন ও পুরবিষয়ক দফতরের উদ্যোগে শুরু হয় তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচি—‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান’।
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পরিচ্ছন্ন পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা এবং ডেঙ্গির মশার বংশবিস্তার রুখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ২২টি জেলার ১২৮টি পুরসভার ১,৬০০-র বেশি ওয়ার্ডে একইসঙ্গে চলে সাফাই ও ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ।
তিন দিনে কী কী কাজ হল?
অভিযানের তিন দিনে রাজ্যজুড়ে ৬,০৬৫টি অবরুদ্ধ নর্দমা পলি ও জঞ্জালমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১,৬০৮টি জমে থাকা আবর্জনার জায়গা এবং ৪,৫১১টি রাস্তার ধারের জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে।
ডেঙ্গির বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ২৭,৩৭৮টি জায়গা পরিষ্কার ও স্প্রে করে মশার লার্ভা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজার থেকে হাসপাতাল—সব জায়গাতেই নজর
শুধু রাস্তা বা নর্দমা নয়, জনসমাগম বেশি হয় এমন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও চালানো হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
অভিযানের আওতায় এসেছে—
১,১০৬টি বাজার ও হাট
১,৩০৪টি স্কুল ও কলেজ চত্বর
৫৪৪টি সরকারি দফতর
৩১৫টি হাসপাতাল চত্বর
ডেঙ্গি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। অভিযানের সময় ৩৫ হাজারের বেশি IEC সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার কাজে যুক্ত হয়েছে ১১৮টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন।
শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন মানুষের অংশগ্রহণও
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজ শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিটি পাড়া, রাস্তা, নর্দমা এবং জনবহুল এলাকা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সাধারণ মানুষকেও নিতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য, এই ধরনের অভিযানকে আরও বড় জনআন্দোলনে পরিণত করা। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার মতো বিষয়ে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান’-এর মাধ্যমে সেই বার্তাই আরও জোরালো করার চেষ্টা করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment