দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সের (এসআরসিসি) একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘দিমাগী নকশাল’ শব্দ ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেতা আশুতোষ রাঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
সৌরভ দাসের তীব্র সমালোচনা
সৌরভ দাসের অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রশ্ন করা ও মত প্রকাশকারী তরুণদের উদ্দেশে ‘দিমাগী নকশাল’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন আশা, আস্থা এবং উৎসাহের বার্তা প্রত্যাশিত ছিল। তার পরিবর্তে সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলা যুবকদের একটি নির্দিষ্ট তকমা দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয় বলেই তাঁর দাবি।
শিক্ষকদের সমস্যা ও পড়ুয়াদের মানসিক চাপ নিয়েও প্রশ্ন
সৌরভ দাসের দাবি, এসআরসিসির এই মঞ্চটি শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের বাস্তব সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যবহার করা যেত।
তাঁর মতে, কলেজের যেসব শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটি এবং শিশুর যত্নের ছুটির মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করেছেন, তাঁদের সমস্যার কথা বলা যেত। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ এবং তরুণদের মানসিক চাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আশুতোষ রাঙ্কারও কটাক্ষ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও।
তাঁর বক্তব্য, এসআরসিসির মতো ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং আগামী দুই দশকে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা শোনার প্রত্যাশা ছিল।
কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির পরিবর্তে ‘দিমাগী নকশাল’-এর মতো মন্তব্য সামনে আসায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেন।
কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?
এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রীর এসআরসিসিতে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে। সেখানে তিনি ১৫ অগস্টের ভাষণে ব্যবহৃত ‘দিমাগী নকশাল’ শব্দটির প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিমাগী নকশাল’-এর রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি হোমিওপ্যাথির ওষুধ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, এরপর একে একে ‘নকশালরা’ প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং দেশের মানুষ তাঁদের প্রকৃত চেহারা চিনতে পারছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিজেপির নেতারা এই ধরনের ভাষার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে পাল্টা আলোচনা।

No comments:
Post a Comment