নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: বিজেপির বুথ সভাপতিকে গুলি করে খুন। রবিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার বোলপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ত্রিশূলাপট্টির মিলপট্টি এলাকায়। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মাথায় গুলি করে বিজেপি নেতাকে খুন করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম চন্দন ভল্লা। তিনি বোলপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির ২০১ নম্বর বুথের সভাপতি ছিলেন। বোলপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ত্রিশূলাপট্টির মিলপট্টি এলাকায় ওই বিজেপি নেতার ওপর হামলা হয়। ঘটনায় বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বোলপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাইকে করে দু'জন আসে। এরপর বিজেপির ওই বুথ সভাপতিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর
মুখে কাপড় ঢাকা অবস্থায় থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবককে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। কয়েকজন পথচারী আহত বিজেপি নেতাকে উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই এই খুন।
এদিকে বোলপুর শহরের জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, খুনের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বাইকের গতিবিধি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মৃতের ছেলে শুভ্রকান্তি ভল্লার দাবী, তাঁর বাবার সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। রাজনৈতিক কারণেই এই খুন। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের পাশাপাশি বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে যান বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "চন্দন ভল্লা নামে একজনকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। কারা করেছে এবং মোটিভ কী ছিল সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা ডগ স্কোয়ার্ড ও ফরেন্সিক দলকে ডেকেছি। তদন্তে যা যা উঠে আসবে সেটা সঠিক সময়ে আপনাদের জানাব।" সেইসঙ্গে তিনি বলেন, "তদন্ত চলছে। আমরা এফআইআর দায়ের করেছি।”

No comments:
Post a Comment