ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এতে অংশ নিলেও এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব যোগ দেবেন না। অখিলেশ যাদব নিজেই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি তাঁর অনুপস্থিতির কারণও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, এই বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির ঊর্ধ্বতন নেতারা যোগ দেবেন। দলের জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন যে, তিনি কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হবে।
দিল্লীতে ৩০শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকটির কথা প্রথম বলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ফোনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। এরপর আরও কয়েকটি দলও এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা করে। জোটে জড়িত সব দলের নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক 'ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স' বৈঠকে একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। বিরোধী দলগুলো ক্রমাগত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করছে। সব দলই তাঁর বিরুদ্ধে রণনীতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিষয়ে অখিলেশ যাদব বলেন, "আমাদের দলের সিনিয়র সদস্যরা বৈঠকে যোগ দেবেন। নির্বাচন কমিশন ও আধিকারিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজবাদী পার্টির ভোট কেটে দিয়েছে।"
লক্ষ্ণৌতে সপা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অখিলেশ যাদব ইন্ডিয়া-জোটের বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন যে, ৩০শে সেপ্টেম্বর তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকবেন। এই কারণে তিনি এই বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না। তাঁর পরিবর্তে সপার সিনিয়র নেতারা যোগ দেবেন। এ বিষয়ে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জোট নিয়ে সপা-কংগ্রেস নেতাদের মন্তব্যের বিষয়ে অখিলেশ যাদব বলেন যে, এটি একটি কৌশলের অংশ। এ সময় অখিলেশ যাদব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী এবং বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন যে, যদি নির্বাচন কমিশন কোনও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকে এবং মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের সমর্থনে কথা বলেন, তাহলে এর অর্থ হল মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেই কেলেঙ্কারিতে জড়িত। পুরো বিজেপিই সেই কেলেঙ্কারিতে জড়িত।
অখিলেশ অভিযোগ করেছেন যে, ২০১৯ সালে ভোট দেওয়া মানুষদের ২০২২ সালে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এবং কোনও নিয়মকানুন না মেনেই এটি করা হয়েছে। অখিলেশ অভিযোগ করেন যে, উপনির্বাচনের সময় রাস্তা অবরোধ করে এবং সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে এসপি প্রধান অভিযোগ করেন যে, উত্তর প্রদেশে ফর্ম ৭-এর অপব্যবহার করা হচ্ছে, যেটির মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি একটি বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া করে ফর্ম ৭-এর আবেদনপত্র পূরণ করার জন্য গ্রামে পাঠিয়েছিল। আপনার কি মনে হয় গ্রামের মানুষ নিজেরাই এই ফর্মগুলো ছাপিয়েছিল? তিনি বলেন যে, লক্ষ্ণৌতে একজন ব্যক্তিই ১০০টিরও বেশি ফর্ম ৭-এর আবেদনপত্র পূরণ করেছেন, অথচ নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি পাঁচটির বেশি ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। এর ফলে ১০০টিরও বেশি ভোট সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "এই কারণেই সমাজবাদী পার্টি ২০২২ সালে সরকার গঠন করতে পারেনি। আমরা বিষয়টি জানতাম, যে কারণে আমরা ২০২৪ সালে এতগুলো এমপি জিতেছি।"
অখিলেশ যাদব নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, "বিষয়টা খুবই সহজ: নির্বাচন কমিশনের উচিৎ তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা। কারও নির্দেশে তাদের কাজ করা উচিৎ নয়। আপনাদের সামনে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আমাদের লোকজন অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের পাহাড় জমে আছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।" তিনি বলেন, কমিশন যদি ব্যবস্থা নিত, তাহলে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠত না।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে, যাদব গোরখপুরে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্যার সময় নৌকার পরিবর্তে শহরে মেট্রো ব্যবস্থা থাকা উচিৎ ছিল। তিনি বলেন, "লোকেরা নৌকা ব্যবহারের কথা বলছে। গোরখপুরে নৌকা কেন ব্যবহার করা হবে? এখানে মেট্রো চালু থাকা উচিৎ ছিল। তার বদলে সেখানে নৌকা চলছে।" অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন যে, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীর উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিশ্রুত ফল পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment