শিলিগুড়ি, ১৪ সেপ্টেম্বর: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পাশাপাশি বিজেপি ও রাজ্য সরকারকেও এক হাত নিয়েছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা। সোমবার শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
সিপিআই(এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছ থেকে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। সেলিমের অভিযোগ, রাজ্যের উন্নয়ন এবং জনগণের সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে বিজেপি নাম পরিবর্তনের মতো বিষয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
তৃণমূল থেকে দলবদল করা সাংসদদের কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, পুরভোটে জোট এবং দুর্গাপুজোর সময় বামেদের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেরও জবাব দেন সেলিম। তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, যারা এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিজেপি পুষে রেখেছে। তাঁর দাবী, দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই বিজেপি এই ধরণের রাজনীতি করে থাকে। অন্যদিকে, তৃণমূলে থাকাকালীন ধান্দাবাজি, তোলাবাজি ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরাই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার জন্য অন্য দলে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেলিম বলেন, “এরা হল ধোবি কা কুত্তা। না ঘরকা না ঘাটকা। তাই বাড়ি ফিরলে এলাকার মানুষ তাদের আক্রমণ করে থাকে।”
বিজেপির বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, বিজেপি বাইরে থেকে আসা কালো টাকা দিয়ে সাংসদ ও বিধায়ক কেনে। পাশাপাশি নিজেদের কালো টাকা দিয়ে মদ, মিডিয়া ও ভোট কেনা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির প্রতিক্রিয়া এদিন পাওয়া যায়নি।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচন নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক। পুর নির্বাচনের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ওয়ার্ড ভাগ করেছে বিজেপি। যে সমস্ত ওয়ার্ডে বিজেপির ভোট বেশি, সেগুলিই ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন সেলিম।
পুরভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে দাবী করেন সেলিম। তিনি বলেন, “পুর নির্বাচনে আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করব কিনা তা এখনও ঠিক হয়নি। তার আগে যেভাবে ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা। তা নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হোক সেটাই আমরা চাই।”
দুর্গাপুজোর সময় বামেদের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন মহম্মদ সেলিম। উৎসবের সময় বামেদের স্টলে কী লেখা হবে বা কী ধরণের কার্যক্রম হবে, তা সরকার ঠিক করে দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেলিমের কথায়, “শরৎকালে উৎসব হয় বলেই শারদ উৎসব বলা হয়। আর আমরা আমাদের স্টলে কি লিখব তা সরকার ঠিক করতে পারেনা।”
এরপর তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করেছিলেন গ্রন্থাগারে কোন সংবাদপত্র পড়া যাবে। বর্তমান সরকারও একইভাবে বামেদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবছর বামেদের পুজোর স্টলের সংখ্যা, বিক্রি ও প্রকাশনা বাড়বে বলেও দাবী করেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, “এবছর আমাদের স্টল সংখ্যা বাড়বে, বিক্রি বাড়বে, প্রকাশনা বাড়বে।”
রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজিনগর কেন্দ্রে বাম প্রার্থী ঘোষণার পরেও আরএসপি প্রার্থী দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে জোটে কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবী করেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “ওটা নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই। আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। জোটে কোনও ফাটল নেই।”

No comments:
Post a Comment