নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: প্রশাসনের নির্দেশে রাতের মধ্যেই চুঁচুড়া ময়দান চত্বরের সমস্ত অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নিতে হবে—এমন নির্দেশ পাওয়ার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বুধবার দুপুরে প্রশাসনের তরফে ময়দান সংলগ্ন অস্থায়ী দোকানদারদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
চুঁচুড়া ময়দানকে ঘিরে রয়েছে শতাধিক অস্থায়ী দোকান। এর মধ্যে রয়েছে চা-বিস্কুটের দোকান-সহ বিভিন্ন ছোট ব্যবসা। ময়দানের আশপাশেই রয়েছে হুগলি জেলাশাসকের দফতর-সহ একাধিক সরকারি ও প্রশাসনিক ভবন। প্রতিদিন বহু সরকারি আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত রয়েছে এই এলাকায়।
ব্যবসায়ীদের দাবী, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই ময়দান চত্বরে ছোট ছোট দোকান করে সংসার চালিয়ে আসছেন। আচমকা রাতের মধ্যেই দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় তাঁরা কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সামনে দুর্গাপুজো, তার আগে এই নির্দেশে উদ্বেগ আরও বেড়েছে তাঁদের মধ্যে।
ময়দানে চা-বিস্কুটের দোকান চালানো এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেই তিনি এই দোকান শুরু করেছিলেন। তাঁর কথায়, প্রশাসনের এই নির্দেশের পর তিনি কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। সরকার যদি তাঁকে কোনও কাজের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে তিনি দোকান সরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
অন্য ব্যবসায়ীরাও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ছোট দোকানগুলিই তাঁদের পরিবারের আয়ের প্রধান অবলম্বন। ফলে দোকান সরিয়ে দিলে তাঁদের সংসার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা।
বিষয়টি নিয়ে চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর কাছে এসে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই চুঁচুড়া ময়দানে তাঁর যাতায়াত এবং এই দোকানগুলির সঙ্গে তাঁরও দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। এখানকার দোকান থেকে চা-বিস্কুট খেয়েই বড় হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সুবীর নাগ বলেন, ময়দানের পাশে একাধিক প্রশাসনিক ভবন রয়েছে এবং সেখানে সরকারি আধিকারিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে বিষয়টি জানানো হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় বিধায়কের বক্তব্য, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গেও তিনি বৈঠকে বসবেন এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। একইসঙ্গে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই ছোট ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাঁদের কর্মসংস্থান যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। ফলত, প্রশাসনের নির্দেশের পর চুঁচুড়া ময়দানের অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে এখন বিধায়ক ও প্রশাসনের আলোচনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

No comments:
Post a Comment