থিমের চাকচিক্য ও আর্থিক সঙ্কটের জোড়া ফলা! হারিয়ে যাচ্ছে বনেদি বাড়ির পুজো, বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, September 17, 2026

থিমের চাকচিক্য ও আর্থিক সঙ্কটের জোড়া ফলা! হারিয়ে যাচ্ছে বনেদি বাড়ির পুজো, বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন


নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: বাঙালি সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে দুর্গা পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল পারিবারিকভাবে। বাংলায় সাবর্ণ রায় চৌধুরী প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাই দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে সম্পন্ন পরিবার গুলির ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। 


ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে এক সময় থাকা পারিবারিক দুর্গাপুজো ক্রমশ সর্বজনীন হয়ে পড়ে। এখন থিম পুজোর ছড়াছড়ি। কিন্তু কালের আবর্তে বহু পারিবারিক দুর্গাপুজো আজ ক্ষয়িষ্ণু। অর্থনৈতিক সংকট যার একটা বড়সড়ো কারণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বছর দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের ঐচ্ছিক এক লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বলাই বাহুল্য পারিবারিক পুজোগুলোকে এর মধ্যে এখনও ধরা হয়নি। হাওড়ার কয়টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুদান পেলে দুর্গাপুজোকে আরও বড় করে তাঁরা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। তাদেরই একটি হল হাওড়া জয়পুর থানার অমরাগরি রায় পরিবারের দুর্গাপুজো। 


৩০৭ বছরের প্রাচীন এই দুর্গা পুজোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাঘ বলির মিথ। জানা গিয়েছে, অতীতে এই এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যেত দামোদর নদ। বর্ধমানের সম্পন্ন ব্যবসায়ী শান্তি রায় ব্যবসার সূত্রে যাওয়ার সময় এই এলাকায় নৌকা নোঙর করেছিলেন। রাত হয়ে যাওয়ায় সেখানে রাত্রিবাস করেন। রাতেই তিনি স্বপ্নে গজলক্ষী দেবী তাঁকে সেখানে প্রতিষ্ঠা করার আদেশ দিলেন। সকালে উঠে লোকজনকে এলাকা পরিস্কার করার আদেশ দিলেন। পরে গড়ে তুললেন গজলক্ষী মূর্তি ও মন্দির, যা আজ ক্ষয়িষ্ণু টেরাকোটার নিদর্শন। আজও রায় পরিবারের এই পুজো পরিচালিত হয় গজলক্ষী মাতা এস্টেটের ব্যানারে। 


এই এস্টেটের বর্তমান সম্পাদক তথা পরিবারের এক সদস্য সৌরভ রায়ের কথায়, "অতীতে বলি হলে ও এখন হয় না। কারণ পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৮০ বছর আগেও এই এলাকা জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। একবার ঝড়জলের জন্য বলিকার পথে আটকে পড়ে এবং বাঘের খপ্পরে পড়ে গাছে উঠে পড়ে। নীচে ব্যাঘ্র শাবক, উপরে খড়্গ হাতে গাছে বলিকার। বলিদানের সময় হলে "জয় মা" বলে ব্যাঘ্র শাবকের উপর খড়্গ হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘ বলি করে। আর সেই রাতেই পরিবারের বয়ঃজেষ্ঠ বলি বন্ধের স্বপ্নাদেশ পান। সেই থেকে পশু বলি বন্ধ হয়।তবে অন্যান্য অনুসঙ্গ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে অর্থ একটি বড় বিষয়।" মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুদানের আবেদন ও করেন সৌরভ রায়। 


সৌরভ রায়ের কথায়, “আগে জৌলুসপূর্ণভাবে এই পুজোগুলি হতো। এখন অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জৌলুস হারিয়েছে। সরকারি এই অনুদান পারিবারিক পুজোর ক্ষোত্রেও যদি দেয়। তাহলে আমাদের এই পারিবারিক পুজো আগের মতো জৌলুস ফিরে পাবে। আগে যেমন আড়ম্বরভাবে পুজো হতো, এখন সেই আড়ম্বরে অনেক কাঁটছাঁট হয়েছে। তার একমাত্র কারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, পারিবারিক পুজোগুলির প্রাণ ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রীর অনুদান প্রয়োজন।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad