নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর: রাতের অন্ধকারে ‘পিকনিক’! তাও আবার সরকারি অফিসে। মাংস রান্না থেকে শুরু করে সেখানে রয়েছে মিউজিক সিস্টেম। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য বালুরঘাটে। দিনের বেলায় যেখানে সরকারি কাজকর্ম, রাত নামতেই সেই অফিস চত্বরেই নাকি ‘পিকনিক’-এর আসর! মাংস রান্না থেকে শুরু করে গান বাজানোর আয়োজন—এমনই দৃশ্য ধরা পড়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওতে। আর সেই ভিডিও ঘিরেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাটে। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ।
অভিযোগ, বুধবার রাতে জেলা ইন্সপেকশন স্কুল অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (ডিআই) অফিস চত্বরে এই আয়োজন করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অফিস চত্বরে রান্নার আয়োজন এবং মিউজিক সিস্টেম দেখা যাচ্ছে। সরকারি দপ্তরের ভিতরে রাতের অন্ধকারে এমন আয়োজন কীভাবে সম্ভব হল, তা নিয়েই উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় এবিআরএসএম-এর সদস্যরা। তাঁরা যেতেই ডিআই অফিসে পিকনিক করা সরকারি কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর বালুরঘাট থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। এনিয়ে এবিআরএসএম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনার পর শিক্ষকরা ফোনে ডিআইকে বিষয়টি জানান।
অভিযোগ, বুধবার রাতে ডিআই অফিসের ভিতরে কয়েকজন কর্মী পিকনিকের আয়োজন করেন। অফিসের আলমারি ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কাছেই গ্যাস ওভেন জ্বালিয়ে রান্না করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে যান এবিআরএসএম সংগঠনের কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের দাবী, তাঁরা অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ করতেই পিকনিকে থাকা কর্মীরা সেখান থেকে চলে যান। রান্না করা মাংস, গ্যাস ওভেন, কড়াই সহ বিভিন্ন জিনিসও ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির পাশে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না করায় আগুন লাগার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি, পিকনিকের সময় আরও কিছু অনৈতিক কাজ চলছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ওই আয়োজনে ডিআই অফিসের এক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবী করেছেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা।
তাঁদের দাবী, ঘটনাস্থল থেকে রান্না করা মাংস, গ্যাস সিলিন্ডার, ওভেন, কড়াই সহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। এই ঘটনায় সরকারি অফিসের ভিতরে রাতে এমন আয়োজন কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।
এবিআরএসএম কোষাধ্যক্ষ পাপাই চৌধুরী বলেন, "আমরা খবর পেলাম ডিআই অফিসে কিছু একটা হচ্ছে। এখন ১০টা বাজে প্রায়। লাইট জ্বলছে। এসে দেখছি ভিতরে পিকনিক হচ্ছে। আরও কয়েকজন ছিল। পিকনিক করছিল।"
সংগঠনের বক্তব্য, সরকারি অফিসকে এভাবে ব্যক্তিগত আয়োজনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিআই এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছেও জানানো হয়েছে বলে সংগঠনের দাবী। তবে এই আয়োজনের সঙ্গে ঠিক কারা যুক্ত ছিলেন, সরকারি কর্মীরা আদৌ এতে জড়িত ছিলেন কি না এবং কী উদ্দেশ্যে অফিস চত্বরে এমন আয়োজন হয়েছিল—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার বিষয়ে ডিআই অফিস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং গোটা ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

No comments:
Post a Comment