নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বেকারির ভেতর থেকে উদ্ধার ম্যানেজারের রক্তাক্ত দেহ। শুক্রবার সাতসকালে এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকায়। একটি পাউরুটি বেকারির ভেতর থেকে ম্যানেজারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম হাফিজুল রহমান, বয়স আনুমানিক ৬০ বছর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর আদি বাড়ি হুগলির পরশুরা এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। কাজের সূত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়িতে ছিলেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। কী কারণে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াবস্তির এই বেকারিতে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও বেকারিতেই ছিলেন হাফিজুর। এদিন সকালে বেকারির ভেতরে হাফিজুল রহমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। বেকারির ভেতর থেকে হাফিজুরের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি জানানো হয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি খুন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেকারির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় শেখ জাহাঙ্গীর আলী জানান, বেকারির একদিকের ভেন্টিলেটর দিয়ে আততায়ী ভিতরে ঢুকে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি টাকা-পয়সা রাখার ড্রয়ারও ভাঙা অবস্থায় রয়েছে বলে দাবী তাঁর। ফলে খুনের পিছনে লুটের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশেরও অনুমান, বেকারিতে লুটপাটের উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে দুষ্কৃতীরা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুর। লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় তাঁকে আক্রমণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান। অন্য দিকে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে সাতসকালে শহরের জনবহুল এলাকায় বেকারির ভেতর ম্যানেজারের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment