'বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দিলে চলে', উপনির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, September 14, 2026

'বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দিলে চলে', উপনির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ


কলকাতা: দুর্গা পুজোর আগেই রাজ্যে ভোট। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। বিশেষ করে নন্দীগ্রামকে ঘিরে উত্তাপ চড়ছে।


ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে সঞ্চিতা প্রধানকে প্রার্থী করেছে মমতা তৃণমূল। অন্যদিকে বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মাকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। সূত্রের খবর, দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। দিল্লীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।


এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আদালত বা নির্বাচন কমিশন যা বলবে, সেটাই চূড়ান্ত। যাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে, তিনি তা কাজে লাগাবেন। তাঁর দাবী, তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও সাংগঠনিক নিয়মকানুনের চাপ নেই। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলকে চরম কটাক্ষ করেন তিনি। 


দিলীপের কথায়, “যে পার্টিকে মানুষ ছেড়ে দিয়েছেন, তার আবার আসল-নকল কী? গত নির্বাচনে তো প্রতীক ছিল, হেরে গিয়েছেন। প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ নয়।” একইসঙ্গে তাঁর দাবী, বিজেপি একটি সংগঠিত দল এবং উপনির্বাচনের মতো নির্বাচনেও পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক করে প্রার্থী বাছাই করা হয়।


তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “অনেকেই প্রার্থী দেবেন। যাদের হারার ভয় থাকে, তারা আগে প্রার্থী দিয়ে একটু পাবলিসিটির চেষ্টা করেন। বিজেপি সংগঠিত পার্টি, একটা বাই ইলেকশনের জন্যও পার্লামেন্টারি বোর্ডের মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে দিতে হয়। তৃণমূলের তো সেই সমস্যা নেই। বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দিলে চলে। আমাদের রীতিনীতি মেনে হবে। আমরা জিতবও। দুর্নীতিবাজ, চোর ছ্যাঁড়োর ছাড়া ওদের কেউ আছে! মানুষ একবার নির্ণয় নিয়েছেন, আরেকবার নেবেন। নির্বাচন আসুক।"


রাস্তার নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গেও এদিন মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তথাগত রায়ের দেওয়া পরামর্শ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ধরণের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন বিশিষ্ট মানুষের কাছ থেকে প্রস্তাব আসে। একটি টিম গঠন করে সেই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


দিলীপের বক্তব্য, কলকাতায় এখনও বহু রাস্তার নাম ব্রিটিশদের নামে রয়েছে। এমনকি ব্রিটিশদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির নামেও রাস্তা রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। তাঁর মতে, “সেগুলো আমাদের গর্বের নয়।” বিদেশি ব্যক্তিত্বদের নামে থাকা রাস্তা ও মূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যাঁদের নিজেদের দেশেও নাম বা মূর্তি নেই, তাঁদের নাম এদেশে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ভাবা উচিৎ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad