নিম্নচাপের জেরে জলমগ্ন চিল্কিগড়, বিপদসীমার উপর ডুলুং নদীর জল! ব্যাহত জনজীবন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, September 25, 2026

নিম্নচাপের জেরে জলমগ্ন চিল্কিগড়, বিপদসীমার উপর ডুলুং নদীর জল! ব্যাহত জনজীবন


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: দু’দিনের টানা বৃষ্টি এবং নিম্নচাপের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছে একাধিক নিচু এলাকা। তার মধ্যেই ডুলুং নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় চিল্কিগড়ের কজওয়ের উপর দিয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। ফলে চিল্কিগড়ের গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ দিয়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। নদীর দু’ধারে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। কজওয়ের দু’প্রান্তে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক পণ্যবাহী লরি।


দু’দিন ধরে নিম্নচাপের জেরে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে নদী ও জলাধারগুলির উপরেও। জামবনি ব্লকের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ডুলুং নদীর জলস্তরও দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিল্কিগড়ের কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে কজওয়ের উপর দিয়ে স্রোতের সঙ্গে জল বইছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে চাইছেন না সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ির চালকেরাও।


চিল্কিগড়ের এই কজওয়ে জামবনি ব্লকের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী যান, এমনকি জরুরি পরিষেবার গাড়িও এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু নদীর জল কজওয়ের উপর দিয়ে বইতে শুরু করায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে।


সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা। কজওয়ের দু’প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক লরি। নদীর জল কমার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জলের স্রোত দেখে পিছিয়ে আসতে হচ্ছে। ফলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা। পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উপরেও।


তবে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়ার থেকেও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে। চিল্কিগড় হাসপাতাল থেকে কোনও রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে সরাসরি এই কজওয়ে দিয়ে রোগীকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নদীর জল পারাপারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় বাধ্য হয়ে ঘুরপথে রোগীদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে।


ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে যাত্রার দূরত্ব, তেমনই বাড়ছে সময়ও। গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সমস্যার কারণে রোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা অন্য কোনও গাড়িতে রোগী নিয়ে যেতে হলে এখন বিকল্প রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।


স্থানীয়দের বক্তব্য, ডুলুং নদীর জলস্তর বাড়লে চিল্কিগড়ের এই কজওয়ের উপর দিয়ে জল উঠে যাওয়া নতুন ঘটনা নয়। বর্ষাকাল কিংবা অতিবৃষ্টির সময় এই যোগাযোগ ব্যবস্থা বারবার ব্যাহত হয়। তবে দু’দিনের নিম্নচাপের জেরে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবী এলাকাবাসীর। তাঁদের আশঙ্কা, বৃষ্টি আরও বাড়লে নদীর জলস্তরও আরও বাড়তে পারে।


নদীর দু’পারে দাঁড়িয়ে এখন একটাই অপেক্ষা—কবে নামবে ডুলুং নদীর জল? কবে স্বাভাবিক হবে চিল্কিগড়ের কজওয়ে? সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ির চালক, ব্যবসায়ী এবং রোগীর পরিবারের সদস্য—সকলেই তাকিয়ে রয়েছেন নদীর জলের দিকে।


ইতিমধ্যেই কজওয়ের উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হওয়ায় সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলস্রোতের মধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা না করার জন্যও সচেতন থাকতে হচ্ছে মানুষকে। কারণ নদীর জল যতটা দেখা যাচ্ছে, তার স্রোত ততটাই বিপজ্জনক হতে পারে।


এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিল্কিগড় এবং আশপাশের এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও তার প্রভাব পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই যাতায়াত এড়িয়ে চলছেন। যাঁদের একান্তই যাতায়াত করতে হচ্ছে, তাঁদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত সময় এবং দূরত্ব দুটোই গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।


বিশেষ করে হাসপাতালে যাওয়া রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই পরিস্থিতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিল্কিগড় হাসপাতাল থেকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঘুরপথে যেতে হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবী উঠছে।


অন্যদিকে পণ্যবাহী লরি আটকে থাকায় চালকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা। দীর্ঘ সময় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনই পণ্য পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও দেরি হচ্ছে। নদীর জল না কমা পর্যন্ত এই সমস্যা থেকে মুক্তির কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছেন তাঁরা।


সব মিলিয়ে দু’দিনের নিম্নচাপের বৃষ্টিতে চিল্কিগড়ে ডুলুং নদী এখন রীতিমতো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনজীবনের সামনে। একদিকে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল, অন্যদিকে কজওয়ের দু’প্রান্তে আটকে রয়েছে যানবাহন। তার মধ্যেই গুরুতর রোগীদের ঘুরপথে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত নদীর জল কমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন চিল্কিগড় এবং জামবনির বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad