নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: হাইকোর্টের নির্দেশে রাত পোহালেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে। এর একদিন আগে কালো কোট পরে অর্থাৎ আইনজীবীর পোশাকে শ্রীরামপুর থানায় এলেন হুগলির মমতা তৃণমুলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।সভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতৃত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা থানায় জমা দিতেই তাঁর এই উপস্থিতি।
এদিন শুক্রবার থানায় এসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অসিত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে কেন্দ্র করে পুলিশ 'অতি সক্রিয়' ভূমিকা পালন করছে। তাঁর দাবী, শ্রীরামপুর শহর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের হয়রানির আশঙ্কায় এলাকাছাড়া। প্রাক্তন বিধায়কের আরও অভিযোগ, সভার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা জমা দিতে আসা কয়েকজন কর্মীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যদিও এই পরিস্থিতিতেও আগামীকাল নির্ধারিত সভা হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সভার আয়োজন করা হচ্ছে বলে দাবী মমতা-তৃণমূল নেতৃত্বের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভায় এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা হবে না। সেই নির্দেশ মেনেই সভা পরিচালনা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রস্তুতি চলছে।
রাজ্যে দুই হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন রয়েছে আগামী ৬ অক্টোবর। এই আবহেই জেলা সফর শুরু করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাই ও ২৮ অগাস্ট দুই মঞ্চ থেকেই পুনরায় জেলা সফর করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার হুগলি জেলায় তাঁর সভা, যা হবে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে।
সভা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পোস্টার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ছাড়াই। এমনকি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী হিসাবে পোস্টারে কোথাও উল্লেখ নেই। মমতা ছাড়া বাকি কোনও নেতার ছবিও নেই। ঘাসফুল বা ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকের ব্যবহারও নেই পোস্টারে। আর উল্লেখযোগ্য ভাবে, এবারে নীল সাদার বদলে অন্য রঙের ব্যবহার দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পোস্টারে।

No comments:
Post a Comment