প্রদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা: চোখে আলো নেই, চারপাশ ঘোর অন্ধকার। কিন্তু স্বপ্নের আলো ছিল প্রখর! শুধুমাত্র অদম্য সাহস আর ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে দেখিয়েছিলেন আমেরিকার এরিক ওয়েহেনমেয়ার।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে দৃষ্টিহীনতা: এক বিরল চোখের রোগের কারণে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই এরিক তাঁর দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হারালেও তিনি নিজের স্বপ্নকে হারাতে দেননি।
এভারেস্ট অভিযান (২০০১): ২০০১ সালের ২৫ মে, ৩৩ বছর বয়সে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। এভারেস্ট জয়ী প্রথম এবং একমাত্র দৃষ্টিহীন পর্বতারোহী তিনি!
তিনি "নো ব্যারিয়ার্স" নামক একটি অলাভজনক সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা মানুষদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ জয় করতে এবং এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগায়। পর্বতারোহনের পাশাপাশি এরিক একজন লেখক এবং দুঃসাহসিক ক্রীড়াবিদ।তিনি ২০১৪ সালে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে ২৭৭ মাইল দীর্ঘ কলোরাডো নদীতে একা কায়াকিং সম্পন্ন করেছেন।
পাহাড়ে ওঠার কৌশল: চোখের বদলে তাঁর ভরসা ছিল হাতের ট্রেকিং পোল, সঙ্গীদের ট্রেকিং বুটের শব্দ এবং তাঁদের হাঁটার দিকনির্দেশনা। সামান্য ভুল পদক্ষেপে যেখানে গভীর খাদে পড়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, সেখানে তিনি নিখুঁত মনোযোগে পেরিয়েছেন খুুম্বু আইসফলের মতো বিপজ্জনক পথ।
'সেভেন সামিট' জয়: শুধু এভারেস্ট নয়, পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি পর্বত চূড়া জয় করেছেন এরিক!
বার্তা:
"যে চোখ দিয়ে দেখে না, সে মন দিয়ে পথ চেনে।" এরিকের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সীমাবদ্ধতা শরীরে নয়—মানসিকতায় থাকে। নিজের ওপর বিশ্বাস আর সাহস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়!

No comments:
Post a Comment