'ভারতের তেল না কিনলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার নয়', পোল্যান্ডে বললেন জয়শঙ্কর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, September 5, 2026

'ভারতের তেল না কিনলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার নয়', পোল্যান্ডে বললেন জয়শঙ্কর


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ভারতের তেল না কিনলেও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ থামার নয়, পোল্যান্ড সফরে মন্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের।রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন যে, ১৪০ কোটি মানুষের চাহিদা মেটানো ভারত সরকারের দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে এবং এর অবসান হবে না। কেউ তেল, অ্যালুমিনা, সার বা ধাতু ও খনিজ কিনবে কি কিনবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিলেই এর অবসান হবে না। এর অবসান তখনই হবে যখন কূটনীতি, সংলাপ এবং বোঝাপড়া হবে। আমার মনে হয় যে, সমস্যাটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। বিষয়টি একটি সংঘাত, এটি একটি যুদ্ধ এবং এর সমাধান বাণিজ্যে নেই। এর সমাধান সংলাপে নিহিত।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, "আমরা ইউক্রেনীয় এবং রুশ পক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আমি নিজে কয়েকদিন আগে মস্কোতে ছিলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পুতিন দুই-তিন দিন আগে বিশকেকে সাক্ষাৎ করেন, এরপর আমি কিয়েভে যাই। আর কাল আমরা রুশ এবং ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা এটা দেখার চেষ্টা করছি যে, এমন কোনও ধারণা বা পরামর্শ আছে কি না, যা কোনও ভাবে এই সংঘাতের তীব্রতা কমাতে বা বলা ভালো, তা শেষ করতে সাহায্য করতে পারে।"


উপ-প্রধানমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কির সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, "উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং আমি কিছু প্রধান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছি। এর মধ্যে একটি হল ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, যা এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। আমি মনে করি আপনারা অনেকেই জানেন যে আমি নিজেও এইমাত্র কিয়েভ থেকে ফিরেছি। ভারত বিশ্বাস করে যে, একটি অন্তহীন যুদ্ধের পথ অবশ্যই যুদ্ধের অবসানের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এই যুদ্ধগুলোতে কেউই জেতে না। প্রতিটি নতুন দিন মানেই আরও বেশি মৃত্যু, আরও বেশি ধ্বংসযজ্ঞ, সব পক্ষের জন্য আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি এবং বাকি বিশ্বের জন্য আরও বড় মূল্য। এই উদ্বেগ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রকাশ্যে প্রকাশ করেছেন। অতএব, আমাদের প্রচেষ্টা সংলাপ ও কূটনীতিকে উৎসাহিত করার ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিৎ। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিয়, যে উপায়ে আমরা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিশ্বাস করি, সেই অনুযায়ী নিজেদের সাধ্যমতো কাজ করা এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে অন্যদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা। এটি ভারতের দৃঢ় বিশ্বাস এবং আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।"


পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, "আজ আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘটনাবলি নিয়েও আলোচনা করেছি। আজকের বিশ্ব শুধু একাধিক সংঘাতের সঙ্গেই নয়, খাদ্য, জ্বালানি ও সারের প্রাপ্যতা নিয়েও গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা একটি পৃথক কিন্তু অতিরিক্ত উদ্বেগের বিষয়। রাজনৈতিক গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং মুক্ত সমাজ হিসেবে ভারত ও পোল্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। জাতিসংঘ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার আমাদের ঐতিহ্য সেই ঐক্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। তাই, আমি এই বলে শেষ করতে চাই যে, আমার আজকের আলোচনা এই সমস্ত দিক থেকেই ফলপ্রসূ ছিল।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad