লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। খাবার হজমে সহায়তা করা থেকে শুরু করে শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লিভারের ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘদিনের লিভারের ক্ষতির ফলে যখন লিভারের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তাকে লিভার সিরোসিস বলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনও স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই শরীরের কিছু পরিবর্তনকে অবহেলা না করাই গুরুত্বপূর্ণ।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেটের ডানদিকের ওপরের অংশে অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে।
রোগের মাত্রা বাড়লে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, ত্বকে চুলকানি এবং সহজে কালশিটে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিংবা পেটে অতিরিক্ত তরল জমে পেট ফুলে যাওয়াও সিরোসিসের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে ছোট মাকড়সার জালের মতো রক্তনালির দাগ এবং হাতের তালু লালচে হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
গুরুতর পর্যায়ে কী হতে পারে?
লিভারের কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে গেলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিভ্রান্তি, আচরণে পরিবর্তন, স্মৃতির সমস্যা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া সিরোসিসের সঙ্গে খাদ্যনালির রক্তনালি ফুলে যাওয়া বা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হলে রক্তবমি কিংবা কালো পায়খানার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
লিভার সিরোসিসের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং অন্যান্য রোগের উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস, পা বা পেট ফুলে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাতের মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ অবিলম্বে।
প্রয়োজনে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারেন।
মনে রাখবেন, লিভার সিরোসিস অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের লিভার রোগের পরিণতি। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে লিভারের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই হতে পারে জটিলতা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

No comments:
Post a Comment