জোড়াফুলের পর প্রার্থীও হারালেন মমতা! নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দান ছাড়লেন সঞ্চিতা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, September 18, 2026

জোড়াফুলের পর প্রার্থীও হারালেন মমতা! নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দান ছাড়লেন সঞ্চিতা


কলকাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে প্রতীক তো পেলেন কিন্তু ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন খেলোয়াড় নিজেই।‌ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার দুপুরে তিনি আচমকাই নবান্নে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন থেকেই শুরু হয় নানান জল্পনা। শেষমেষ সমস্ত জল্পনা সত্যি করে নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। প্রত্যাহার করে নিলেন মনোনয়নপত্র। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ আর লড়াইয়ে থাকছেন না।


শুক্রবারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মমতা শিবিরের নাম 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।' তাঁদের প্রতীক হল 'ফুটবলার'। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম 'ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস'। তাঁদের প্রতীক 'খাম'। অর্থাৎ এই দুই শিবির, দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে লড়বে এই নাম-প্রতীকে। 


এদিকে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হতেই স্বামী সত্যজিতের সঙ্গে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সঞ্চিতা। আর তাতেই চিত্র খানিকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, নানান জল্পনাও শুরু হয় এরপর থেকে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেইসব জল্পনা সত্যি করে মনোনয়ন তুলে নিলেন সঞ্চিতা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে হলদিয়ায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কেন আচমকা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন? এনিয়ে এখনও অবশ্য তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 


উল্লেখ্য, প্রথমে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জেলার অভিজ্ঞ নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরির প্রার্থী হওয়া নিয়ে বেশ জল্পনা ঘনিয়ে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ডেকেও পাঠিয়েছিলেন কালীঘাটের বাড়িতে। কিন্তু অখিল গিরি জানান, তিনি নন, স্থানীয় স্তরের কোনও নেতাকে প্রার্থী করা হোক। তাঁর মতামতকে মান্যতা দিয়ে স্থানীয় শিক্ষিকা তথা দীর্ঘদিন তাঁর দলের সঙ্গে যুক্ত সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেন মমতা। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে প্রচারেই নামেননি সঞ্চিতা। হয়তো প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তা ছিল। যদিও জোড়াফুল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হওয়ার পর সঞ্চিতার ভূমিকায় স্পষ্ট, তাঁর পরিকল্পনা হয়তো ভিন্ন ছিল। এদিন সটান তাঁর নবান্নে পৌঁছে যাওয়া ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা ছিলই, আর সেট শেষ পর্যন্ত সত্যিও হল।


এদিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সঞ্চিতার সাক্ষাৎ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, 'চাপ থাকতে পারে।‌ ওখানে বিজেপি বা যেভাবে চাপ সৃষ্টি করছে ইত্যাদি।‌ কেন গেলেন জানি না। দলকে জানিয়েও যেতে পারেন। পাশাপাশি কুণাল বলেন, 'উনি (সঞ্চিতা) নিজেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।‌'



No comments:

Post a Comment

Post Top Ad