কলকাতা: বাংলায় দুই আসনে উপনির্বাচন। এই আবহেই গ্রেফতার হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুরনো একটি খুনের মামলায় পুলিশের জালে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। বঙ্গ রাজনীতিতে এদিন একের পর এক চমক। বৃহস্পতিবারের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ হয়েছিল। এরপর শুক্রবার যাও বা নতুন নাম-প্রতীক মেলে, তারপরেই প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেন মমতার নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। এর পর পরই সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর দল নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই করবে না, পরিবর্তে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। এবারে সেই প্রার্থীও শ্রীঘরে। এককথায় নন্দীগ্রামে আম-ছালা দুই-ই গেল মমতার।
জানা যাচ্ছে, প্রায় দু'দশকের পুরনো মামলা অর্থাৎ নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সেই মামলাতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিন জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নতুন প্রতীক হিসেবে মমতাদের দেওয়া হয় 'ফুটবলার', অন্যদিকে ঋতব্রতরা পেয়েছেন 'খাম'। এরপরই দুপুরে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তারপর হলদিয়া ফিরে মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পরেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, "আমরা নন্দীগ্রামে লড়ব না, ওখানে কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। সিস্টার পার্টি হিসেবে। রাহুল জির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করব।"
এরপর সন্ধ্যা নামতেই নন্দীগ্রামে ট্যুইস্ট। গ্রেফতার হলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। পুরনো সেই মামলাতেই এদিন তাঁর এই গ্রেফতারি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সমর্থনের কথা জানানোর পরই কংগ্রেস প্রার্থীর এই গ্রেফতারি কি নিছকই কাকতালীয়? এমনটা মনে করছেন না অনেকেই। কংগ্রেস প্রার্থীকে পুলিশের জালে এনে কি আসলে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি কি কংগ্রেসও আর উপনির্বাচনে থাকছে না? এইসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

No comments:
Post a Comment