দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শিক্ষক দিবসে আক্রান্ত বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি। বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি বেদি থেকে উপড়ে ভেঙে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ । ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল এলাকায়।
বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতর এবং পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাসাগর উদ্যানে ছিল ওই মূর্তিটি। এটি বসানো হয়েছিল ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। মূর্তি উন্মোচন করেন তৎকালীন কাউন্সিলর মুজাফ্ফর আহমেদ। এই পার্কে প্রতিদিন স্থানীয় বহু মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের দাবী, পার্কটি জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। অথচ হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের।। বিদ্যাসাগরের মূর্তিটিরও প্রায় রুগ্ন দশা। কেন তা সত্ত্বেও বারুইপুর পুরসভার তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। আর এসবের মাঝেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর। ঘটনায় ক্ষোভের পারদ ক্রমশই চড়েছে।
কে বা কারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করল, কেনই বা করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় যথাযথ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের তরফে অবিলম্বে ওই মূর্তিটি আগের জায়গায় ফেরানোর আর্জিও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের মতো নক্ক্যরজনক ঘটনা এই বাংলার বুকে আগেও ঘটেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে অমিত শাহর রোড শো চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের একটি মূর্তি ভাঙা নিয়ে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, অমিত শাহর বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠায় মেজাজ হারিয়ে বিজেপি সমর্থকরাই এই ঘটনা ঘটান। তদন্তে নেমে প্রায় ৫০টিরও বেশি ভিডিও ফুটেজ হাতে পায় পুলিশ। যদিও ওই কলেজের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসেনি। বাংলার ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে বলে বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তোলে তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি।

No comments:
Post a Comment