ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ছয় মাস পরেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে, তাদের নৌবাহিনী একটি মার্কিন রিমোট-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন বোটে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি দাবী করেছে, বোটটি হরমুজ প্রণালীর সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আল জাজিরা অনুযায়ী, আইআরজিসি বলেছে, "এই কৌশলগত জলপথটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের শিশুদের প্রাণে মারার যে কারো যেকোনও কর্মকাণ্ডের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।" আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জেনে রাখা উচিৎ যে, এই এলাকা ছেড়ে যাওয়া এবং তাদের এই অশুভ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
এর আগে শনিবার সকালে, ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায় যে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জাহাজটিতে অন্তত চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে নাবিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার দায় স্বীকার করে।
সেন্টকম জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত দুটি যুদ্ধজাহাজের দিকে আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর তারা তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, এম/টি ডাউনি এবং এম/টি স্টার্ক ১ আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওমান উপসাগরে খালি ট্যাংকার এম/টি কাইলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, তেহরান যদি মার্কিন জাহাজে গুলি চালায়, তবে তারা তাদের তেল ট্যাংকারগুলো ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেছেন যে, ইরানের তেল ট্যাংকার বহর ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে, এই অঞ্চলে অব্যাহত আগ্রাসী ও অনুপ্রবেশমূলক কর্মকাণ্ডের পরিণতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ভোগ করতে হবে। এরপর, আইআরজিসি একটি বিবৃতি জারি করে জানায় যে, তারা হরমুজ প্রণালীতে অননুমোদিত পথ দিয়ে যাওয়া তিনটি তেল ট্যাংকারে এবং অন্যান্য এলাকায় আমেরিকার মালিকানাধীন তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

No comments:
Post a Comment