ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর টহলদারি নিয়ে এবার মুখ খুলল বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চীনের সেনাবাহিনী যখন পূর্বনির্ধারিত টহলদারির নিয়ম থেকে সরে আসে, তখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং সেই অনুযায়ী টহলদারির পদ্ধতিতেও বদল আনতে হয়। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-র মহানির্দেশক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, ভারত ও চীনের মধ্যে এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে। জওয়ানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনও দু’দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে মোতায়েন ভারতের ‘শৌর্য কমান্ডো’ দলগুলির ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
আইটিবিপি-র মহানির্দেশকের মন্তব্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার মুখ খোলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "এই বিষয়টির বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলব। যেমনটা আগেও জানানো হয়েছে যে, চীনের সেনাবাহিনী যখন পূর্বনির্ধারিত টহলদারির পদ্ধতি থেকে সরে আসে, তখন ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় সময়ে সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।"
তিনি বলেন, "উভয় পক্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল মূল্যায়ন এড়াতে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়াগুলো ব্যবহার করে চলেছে। উভয় পক্ষ উন্নততর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত এলাকাগুলোতে এলএসি সম্পর্কে বোঝাপড়া উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতেও সম্মত হয়েছে। আমি এই বিষয়েও জোর দিতে চাই যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।"

No comments:
Post a Comment