মধ্যরাতেই আছড়ে পড়তে পারে 'মুরাসু'! শুরু প্রবল বৃষ্টি, বাতিল একাধিক বিমান - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, November 3, 2026

মধ্যরাতেই আছড়ে পড়তে পারে 'মুরাসু'! শুরু প্রবল বৃষ্টি, বাতিল একাধিক বিমান


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: অর্ণবের পর এবার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলিতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার একাধিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।


সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি এবং বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি অভ্যন্তরীণ বিমান বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ১০টি এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দু'টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর বাতিল করেছে চারটি বিমান এবং তিরুপতি বিমানবন্দর তিনটি।


প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর তামিলনাড়ুতে বৃষ্টির জেরে চেন্নাইয়ের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দফতরের তরফে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ার পর সোমবার স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও কয়েকটি বিমান বাতিল করেছে। যাত্রীদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


চেন্নাই, চেঙ্গলপট্টু এবং তিরুভাল্লুর জেলার একাধিক এলাকায় রবিবার রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে, ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কারণে চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। চেঙ্গলপট্টু, কাঞ্চিপুরম, রানিপেট, ভেলোর এবং নীলগিরি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় সম্পূর্ণভাবে উপকূল অতিক্রম করার পরেই ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে।


প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতির মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে তামিলনাড়ু। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্র হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ। এখানে ৯০ জন কর্মী নিয়ে এনডিআরএফের তিনটি দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ৫০০ কর্মী নিয়ে ২৫টি দল পাঠিয়েছে তামিলনাড়ু। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫০০ জন দক্ষ বিদ্যুৎকর্মী এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা করেছে কর্ণাটক।


এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল এবং রায়লসীমা জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আশা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সীমিত থাকবে। কারণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় মুরাসুর ক্ষেত্রে হাওয়ার গতিবেগ এবং বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই কারণে রাজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ দ্রুত শুরু করেছে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজ্যের একাধিক এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ওড়িশার কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় ৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। ওড়িশার বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও ওড়িশার একাধিক এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ওড়িশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরি জেলাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তিনি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু' অতিক্রম করার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে এই আর্থিক প্যাকেজের পুনর্বিবেচনা করা হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad