দীপাবলিতে সাফাইয়ে সময় সাবধান! অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফল হতে পারে মারাত্মক, সতর্ক করলেন চিকিৎসক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, November 6, 2026

দীপাবলিতে সাফাইয়ে সময় সাবধান! অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফল হতে পারে মারাত্মক, সতর্ক করলেন চিকিৎসক


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০৬ নভেম্বর ২০২৬: দীপাবলির আবহে ঘর পরিষ্কারের কাজে অনেক সময় মহিলারা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে নিজেদের শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলেই যান। আর হ্যাঁ, শুধু ক্লান্তি বা দুর্বলতা নয় বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় অনেক মহিলার জরায়ু নেমে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। এই সমস্যা গুরুতর হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে। এই বিষয়ে চিকিৎসক বন্দনা মিত্তল মহিলাদের সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, কোন ধরণের মহিলাদের জরায়ু নেমে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।


ভারী আসবাবপত্র কোনওভাবেই একা সরাবেন না-

মহিলারা প্রায়শই একাই বাড়ির সমস্ত কাজ সামলান। এই সময় তাঁরা আলমারি, বেড বক্স, ভারী ড্রয়ার বা অন্যান্য আসবাবপত্র নিজেরাই সরানোর চেষ্টা করেন। এর ফলে জরায়ু নেমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসক জানিয়েছেন, কোন ধরণের মহিলাদের একা ভারী আসবাবপত্র সরানো উচিৎ নয়।


কোন মহিলাদের জরায়ু নেমে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি?

* যেসব মহিলার বয়স ৪০-৪৫ বছর বা তার বেশি।

* যেসব মহিলার বাড়িতে একের বেশি প্রসব হয়েছে।

* যেসব মহিলার দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে।

* যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগছেন।

* যাঁদের তলপেটের নিচের অংশে কোনও গাঁট বা ভারী ভাব অনুভূত হয়।

* হাঁচি বা কাশির সময় যাঁদের প্রস্রাব লিক হয়ে যায়।

* যেসব মহিলার আগে থেকেই জরায়ু নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে।



এই ধরণের মহিলাদের ভারী জিনিস তোলা বা সরানোর সময় জরায়ু নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আসলে মহিলারা যখন হঠাৎ করে সোফা, টেবিল বা অন্য ভারী আসবাব তোলেন কিংবা জোর করে সরানোর চেষ্টা করেন, তখন পেটের ভিতরের অংশে চাপ আচমকা বেড়ে যায়। এর ফলে ইউটেরাইন প্রোল্যাপস বা জরায়ু নেমে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।


কখন জরায়ু নেমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে?

জরায়ু নেমে যাওয়ার সমস্যাকে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যদি জরায়ু প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে নেমে থাকে, তাহলে হঠাৎ ভারী জিনিস তোলা বা সরানোর সময় পেটের ভিতরে চাপ বেড়ে সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে। এর ফলে জরায়ু নেমে যাওয়ার মাত্রা তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।


অন্যদিকে, জরায়ু প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে নেমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ বা অন্যান্য চিকিৎসার সাহায্যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।


মহিলারা অবশ্যই সতর্ক থাকুন-

দীপাবলির বা অন্য কোনও উৎসবের আবহে ঘর পরিষ্কারের সময় মহিলাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিৎ। একা সমস্ত কাজ করার পরিবর্তে অন্যের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়ানোর পাশাপাশি জরায়ু নেমে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকিও কমানো যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই এই ধরণের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ভারী আসবাবপত্র তোলা বা সরানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।


স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য: জরায়ু নেমে যাওয়ার সমস্যা থাকলে ভারী কাজ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। সব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান নয়; চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার মাত্রা ও উপসর্গের ওপর।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad