ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৪ নভেম্বর ২০২৬: প্রায় ৯ মাস আগে ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষমতার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর স্বপ্ন দেখছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যেই শুরু করেছিলেন যুদ্ধ। কিন্তু এবার সেই যুদ্ধই আমেরিকার অভ্যন্তরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড়সড় ক্ষতির জন্য ইরানে চলা যুদ্ধও কিছুটা দায়ী।
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই দখল নিতে চলেছে ডেমোক্র্যাটরা। এটি তাদের জন্য এক বড়সড় ঐতিহাসিক জয় হতে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক জন-অপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল জয় অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর ফলে আগামী দু’বছরে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করেছে তারা।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটরা এমন একাধিক এলাকাতেও জয় পেয়েছে, যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলগুলিতে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের নজির ছিল না। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় সিনেটের আসন জয়। ২০২৪ সালে এই রাজ্যে ট্রাম্প ১৮ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। টেক্সাসেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ১৯৯৪ সালের পর এই রাজ্যে রাজ্যস্তরের নির্বাচনে কোনও ডেমোক্র্যাট জয়ী হননি। এমনকী কানসাসেও জয় এসেছে তাদের ঝুলিতে। ১৯৩২ সালের পর এই রাজ্য থেকে কোনও ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
মার্কিন সংসদের নিয়ন্ত্রণ বদলের মধ্য দিয়ে গত ২২ মাসের অস্থির রাজনৈতিক অধ্যায় যেন একপ্রকার সম্পূর্ণ হল। গত ৫০ বছরে মাত্র দু’বার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন একই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদল হয়েছে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের পাশাপাশি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়েও তাঁদের উদ্বেগ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment