ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৪ নভেম্বর ২০২৬: বসতি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের বেমিনা এলাকার দুর্বলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ৮০টি অস্থায়ী ঝুপড়ি। রাত প্রায় ১২টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগে। কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘনবসতিপূর্ণ ঝুপড়িগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। অত্যন্ত দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবায় খবর পৌঁছনোর আগেই আগুন গোটা বস্তিকে গ্রাস করে নেয়।
জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত পোলট্রি ফার্মও আগুন ও তীব্র তাপের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই জেভিসি ও রাওয়ালপোরা দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে বাটামালুতে অবস্থিত ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের সদর দফতর থেকেও অতিরিক্ত সাহায্য পাঠানো হয়। শ্রীনগরের ডেপুটি ডিরেক্টর কমান্ড ও মোবিলাইজিং অফিসার এজাজ আহমেদ শাহ, ডিএফও সিটি এবং ডিএফও সদর দফতরের সমন্বয়ে একাধিক দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বড়সড় অভিযান চালান।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে দু’জনের দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে। মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় ২৭ বছর বয়সি মহম্মদ নূর আলম হিসেবে জানা গিয়েছে। তাঁর বাবার নাম আবদল ওয়াহাব। তিনি মূলত দিল্লির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে দুর্বলে থাকতেন। অন্য মৃত ব্যক্তির পরিচয় ১৬ বছর বয়সি আল আমিন। তাঁর বাবার নাম মহম্মদ রফি। আল আমিনও দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুপওয়ারায় থাকতেন। দু’জনেই স্থানীয়ভাবে কাগজ ও বিভিন্ন বাতিল সামগ্রী কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মৃতদেহগুলি স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর দু’জনের দেহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, এর আগে অক্টোবর মাসে জম্মু রেলওয়ে স্টেশনের সামনের শিবা মার্কেটেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই আগুনে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment