নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দীপাবলির মুখে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ভক্তিনগর থানার পুলিশ এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর যৌথ অভিযানে পিসি মিত্তল বাস টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে মাদক পাচারের খবর পেয়ে ভক্তিনগর থানার পুলিশ ও এসওজি-এর একটি বিশেষ দল যৌথভাবে পিসি মিত্তল বাস টার্মিনালে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু'জন মালদা জেলার বাসিন্দা এবং অপর একজন উত্তর দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগারের পরিমাণ প্রায় ২ কেজি।
প্রাথমিক অনুমান, আন্তর্জাতিক মাদক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। তবে এই বিপুল পরিমাণ মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, শিলিগুড়িকে কি পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিংবা এই মাদক উত্তরবঙ্গের কোন কোন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম এমডি আলি রমজান, শরীফু ইসলাম ও রবিউল মিয়া। এদের মধ্যে এমডি আলি রমজান ও শরীফু ইসলামের বাড়ি কালিয়াচকে। অপর অভিযুক্ত রবিউল মিয়া বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পিসি মিত্তাল বাস টার্মিনাস এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ বাহিনী। সেখানে হাতে ব্যাগ নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল ওই তিনজন।
পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় মাদক। একজনের ব্যাগ থেকে এক কেজি ব্রাউন সুগার পাওয়া যায়। বাকি দু'জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয় যথাক্রমে ৫০২ গ্রাম ও প্রায় ৫০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ প্রায় দুই কেজি।
ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচার চক্রের মূল মাথাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বড় পাচারচক্র কাজ করছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, উৎসবের মরসুমে শহরে বড়সড় মাদক সরবরাহের উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। ধৃত তিনজনকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক পাচার রুখতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তারই মধ্যে ভক্তিনগর থানার পুলিশ ও এসওজি-এর এই যৌথ অভিযানকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বড়সড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, এখন সেটাই তদন্তের মূল লক্ষ্য।

No comments:
Post a Comment