বিনোদন ডেস্ক, ০১ নভেম্বর ২০২৬: স্মার্টফোনের দুনিয়ায় এক ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির সন্ধান মিলেছে। এর জেরে বিপদের মুখে পড়তে পারেন কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী। আসলে 'এসএমএস অফ ডেথ' নামে একটি নতুন সিকিউরিটি ভালনারেবিলিটির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে সম্পূর্ণভাবে খারাপ করে দিতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন কোন দেশে এর প্রভাব পড়েছে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই অদ্ভুত নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিটি প্রথম শনাক্ত করেন সিকিউরিটি গবেষক মার্ক ব্লাসজিক। পরে এর নাম দেওয়া হয় 'এসএমএস অফ ডেথ'। গবেষকের দাবী, এই ধরণের আক্রমণের জন্য বিশেষ ধরণের একটি এসএমএস ব্যবহার করা হয়। যার জেরে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সিস্টেম ক্র্যাশ করে যেতে পারে। এরপর ফোনটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এমনকি স্মার্টফোনের কল পরিচালনাকারী সিস্টেমও সম্পূর্ণভাবে ক্র্যাশ করতে পারে। ফলে সমস্ত ফোন কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নম্বরেও ফোন করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
গবেষক সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরণের প্রায় ২০টি বিপজ্জনক মেসেজ যে কোনও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারে। তাঁর দাবী, 'এসএমএস অফ ডেথ'-এর কারণে স্মার্টফোন বুটলুপে আটকে যেতে পারে। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বারবার ওই এসএমএস প্রসেস করার চেষ্টা করতে থাকবে। এর ফলে ফোনটি আর স্বাভাবিকভাবে চালু হতে পারবে না।
'এসএমএস অফ ডেথ'-এর আরও একটি বিপজ্জনক দিক হল, এই মেসেজ শনাক্ত করা বেশ কঠিন। কারণ, সাধারণ এসএমএস ইনবক্সে এই মেসেজের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায় না। সিস্টেম মেসেজটি প্রসেস করতে গিয়েই ক্র্যাশ করে যায়। ফলে ব্যবহারকারীর কাছে কোনও নোটিফিকেশনও পৌঁছয় না।
এই সমস্যার ক্ষেত্রে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলেও সহজে সমাধান মিলছে না বলে দাবী করা হয়েছে। আসলে কোনও নম্বরে এই ধরণের মেসেজ পাঠানো হলে টেলিকম অপারেটর সেটি বারবার সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ফলে ফোন চালু করলেই ফের ক্র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গবেষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, কম্পিউটারের সঙ্গে স্মার্টফোন সংযুক্ত করে এই ধরণের মেসেজ শনাক্ত করা এবং মুছে ফেলা সম্ভব হতে পারে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এই পদ্ধতি বেশ জটিল বলে মনে হতে পারে।
গবেষক জানিয়েছেন, গত ৫ মে প্রথমবার তিনি গুগলকে এই নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। তবে তাঁর দাবী, গুগল বারবার তাঁর রিপোর্টকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে গবেষক জানতে পারেন, গুগল দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment