ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৫ নভেম্বর ২০২৬: স্ত্রীকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর স্বামী-সহ পরিবারের সকল সদস্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলার দেহ উদ্ধার করে। ততক্ষণে দেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কন্নৌজে। ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে স্ত্রীয়ের পরকীয়া এবং অভিযোগ, এর জেরেই স্ত্রীকে এমন নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মেরেছেন স্বামী। সিকন্দরপুর পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত জগৎপুর গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা সুখবীর সিং ১১ বছর আগে সোনমকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। এদিকে, সোনমের গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চাইছিলেন তিনি। প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিলেন সোনম। এই বিবাদকে কেন্দ্র করে দু’দিন আগে সিকন্দরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সালিশি সভা বসে। সেখানে দুই পক্ষকে ডাকা হয়। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা ও মীমাংসার চেষ্টা চলার পর সোনম প্রেমিককে ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতে রাজি হয়ে যান।
জানা গিয়েছে, সালিশি সভার পর ওই দিন সন্ধ্যাতেই সোনমের প্রেমিক বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁর প্রাণ রক্ষা হয়। এদিকে, পরের দিন ফের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই স্ত্রীকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই ওই মহিলা গুরুতরভাবে পুড়ে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছনোর আগেই স্বামী-সহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। আগুন নেভানোর পর দেখা যায়, মহিলার দেহ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ, সালিশি সভায় হওয়া মীমাংসা এবং হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে গ্রামে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

No comments:
Post a Comment