আধুনিক সমাজে পরকীয়া (extramarital affair) ক্রমশ একটি আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠছে। সম্পর্কের ভাঙন, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক সংকটের অন্যতম বড়ো কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পরকীয়াকে চিহ্নিত করেছেন। একদিকে এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ভেঙে দেয়, অন্যদিকে সামাজিক কাঠামোকেও নড়বড়ে করে তোলে।
কেন ঘটে পরকীয়া
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরকীয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
সম্পর্কে একঘেয়েমি: দীর্ঘদিনের সম্পর্কে উত্তেজনা বা নতুনত্বের অভাব অনেক সময় সঙ্গীকে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলে।
আবেগগত অপূর্ণতা: দাম্পত্য সম্পর্কে সঠিক বোঝাপড়া বা আবেগগত সমর্থন না থাকলে মানুষ বাইরের দিকে টান অনুভব করে।
শারীরিক আকর্ষণ: অনেক সময় শারীরিক চাহিদা পূরণ না হলে সম্পর্ক ভাঙনের পথে যায়।
সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে সহজ যোগাযোগ অনেককেই পরকীয়ায় জড়িয়ে ফেলছে।
মানসিক চাপ ও হতাশা: কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত সংকট থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ নতুন সম্পর্কে আশ্রয় খোঁজেন।
গবেষণার তথ্য
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহুরে জীবনে পরকীয়ার প্রবণতা গ্রামীণ জীবনের তুলনায় অনেক বেশি। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ২০–২৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পরকীয়ায় জড়ান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আরও বেশি চোখে পড়ছে।
পরকীয়ার প্রভাব
পরকীয়া কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাঙে না, এর বহুমুখী প্রভাব সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদ: বেশিরভাগ বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে পরকীয়া একটি বড়ো কারণ।
সন্তানদের মানসিক সমস্যা: বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভাঙনের ফলে শিশুদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়।
সামাজিক সুনামের ক্ষতি: পরকীয়া অনেক সময় সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং ব্যক্তির সুনাম ধ্বংস করে দেয়।
মানসিক চাপ ও হতাশা: এতে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিরাও অনেক সময় অপরাধবোধ, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের শিকার হন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দাম্পত্য সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে পরকীয়া রোধ করা সম্ভব।
সম্পর্কের মধ্যে নিয়মিত কথোপকথন ও বোঝাপড়া রাখা জরুরি।
একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত।
সামাজিক মাধ্যমে সীমারেখা টানা দরকার।
সম্পর্কের সংকট দেখা দিলে কাউন্সেলিং-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
পরকীয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত ভুল নয়, এটি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের জন্য বড়ো হুমকি। সম্পর্কের মধ্যে আস্থা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলেই এই সমস্যাকে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সামাজিক সচেতনতা ও মানসিক পরিপক্বতা ছাড়া এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন।

No comments:
Post a Comment